
মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে নিজের জমিতে সীমানা প্রাচীর তুলতে নিষেধ করেছিলেন। সেই ‘অপরাধেই’ ক্ষিপ্ত প্রতিবেশীদের কোদালের হাতলের আঘাতে প্রাণ হারাতে হলো মসজিদের মুয়াজ্জিন জহুরুল ইসলাম প্রধানকে (৪৯)। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পাঁচ প্রতিবেশীকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত জহুরুল উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের চক মাকড়া (মধ্যপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে নিহতের স্ত্রী মমিনা বেগম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় এ মামলা করেন। মামলায় নামীয় পাঁচজনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—একই এলাকার সানোয়ার আকন্দ (৫৫), জিহাদ আকন্দ (৩২), এরশাদ আকন্দ (৩৪), জিল্লু আকন্দ (৪০) ও মাসুদ আকন্দ (৪৪)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বসতভিটা সংলগ্ন জমি নিয়ে আসামিদের সঙ্গে জহুরুল ইসলামের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে স্থানীয় সালিশ বৈঠক হলেও প্রতিপক্ষ তা মানেনি। বুধবার সকাল ৯টার দিকে আসামিরা জোরপূর্বক মসজিদের পাশের জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য কোদাল দিয়ে মাটি খোঁড়া শুরু করে। খবর পেয়ে জহুরুল সেখানে গিয়ে নিজের জমি রক্ষা এবং মসজিদে যাতায়াতের রাস্তাটি বন্ধ না করার অনুনয়-বিনয় করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত সানোয়ারের হুকুমে জিহাদ আকন্দ কোদালের বাঁট (আছাড়ি) দিয়ে জহুরুলের বুকে সজোরে আঘাত করে। মুহূর্তেই জহুরুল চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ফরহাদ আলী জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জমিজমা ও রাস্তা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িত আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছে; তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















