বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দোকানিকে অপহরণ ও জিম্মি করে চাঁদা আদায়: ওলামাদল নেতাসহ দুর্ধর্ষ দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক মনোহারী দোকানিকে পথরোধ করে জিম্মি ও ধারালো অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

​অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ওলামাদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যুৎ (প্রতিবেদনে মো. আনিছুজ্জামান বিদ্যুৎ নামেও উল্লেখ রয়েছে) এবং যতীশ চন্দ্র সাহা। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ২৫ অক্টোবর গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এই পরোয়ানা জারি করেন। তবে তদন্তে অপর দুই আসামির সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

​মামলার বিবরণ ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর বাজারের মনোহারী দোকানি শ্রী সঞ্জয় কুমার সাহা দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বাসুদেবপুর এলাকার আলিফ কোচিং সেন্টারের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করেন। পরে মুখে কাপড় বেঁধে তাকে পাশের একটি গাছবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়।

​সেখানে গলায় ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবীকৃত টাকা তাৎক্ষণিকভাবে দিতে না পারায় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে দোকানি তার বোনকে বিষয়টি জানালে বিকাশের মাধ্যমে দুটি লেনদেনে মোট ৪০ হাজার টাকা (৩০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা) পরিশোধ করা হয়। এরপরও আরও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

​ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাইবান্ধার এলআইসি শাখা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে চলতি বছরের ২৪ মার্চ অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বরের বিকাশ স্টেটমেন্ট, কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং সিম নিবন্ধনের কাগজ সংগ্রহ করে।

​তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বাদী, সাক্ষী ও সংগৃহীত ডিজিটাল নথিপত্র পর্যালোচনায় আসামি আসাদুজ্জামান বিদ্যুৎ ও যতীশ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে মামলার ৩ ও ৪ নম্বর আসামি শ্রী পরিমল চন্দ্র সাহা এবং মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের নাম প্রতিবেদনে বাদ দেওয়া হয়।

​আদালতের এই আদেশের ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

অবৈধ বালু ব্যবসায়ীর নগ্ন মিথ্যাচার! জরিমানা দিয়ে এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ

error: Content is protected !!

দোকানিকে অপহরণ ও জিম্মি করে চাঁদা আদায়: ওলামাদল নেতাসহ দুর্ধর্ষ দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রকাশের সময়: ০৯:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক মনোহারী দোকানিকে পথরোধ করে জিম্মি ও ধারালো অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

​অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ওলামাদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যুৎ (প্রতিবেদনে মো. আনিছুজ্জামান বিদ্যুৎ নামেও উল্লেখ রয়েছে) এবং যতীশ চন্দ্র সাহা। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ২৫ অক্টোবর গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এই পরোয়ানা জারি করেন। তবে তদন্তে অপর দুই আসামির সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

​মামলার বিবরণ ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর বাজারের মনোহারী দোকানি শ্রী সঞ্জয় কুমার সাহা দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বাসুদেবপুর এলাকার আলিফ কোচিং সেন্টারের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করেন। পরে মুখে কাপড় বেঁধে তাকে পাশের একটি গাছবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়।

​সেখানে গলায় ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবীকৃত টাকা তাৎক্ষণিকভাবে দিতে না পারায় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে দোকানি তার বোনকে বিষয়টি জানালে বিকাশের মাধ্যমে দুটি লেনদেনে মোট ৪০ হাজার টাকা (৩০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা) পরিশোধ করা হয়। এরপরও আরও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

​ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাইবান্ধার এলআইসি শাখা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে চলতি বছরের ২৪ মার্চ অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বরের বিকাশ স্টেটমেন্ট, কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং সিম নিবন্ধনের কাগজ সংগ্রহ করে।

​তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বাদী, সাক্ষী ও সংগৃহীত ডিজিটাল নথিপত্র পর্যালোচনায় আসামি আসাদুজ্জামান বিদ্যুৎ ও যতীশ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে মামলার ৩ ও ৪ নম্বর আসামি শ্রী পরিমল চন্দ্র সাহা এবং মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের নাম প্রতিবেদনে বাদ দেওয়া হয়।

​আদালতের এই আদেশের ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।