
গাইবান্ধার সাঘাটায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদ করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। আইনানুগ এই পদক্ষেপের পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিকেলে সাঘাটার দক্ষিণ সাথালিয়া ও মুন্সিরহাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাজের ভুয়া সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদ করে বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণ সাথালিয়ার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার কাছে বালু উত্তোলনের বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদন দেখতে চাইলে তিনি তা প্রদানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আলমগীর নিজেকে পাউবো’র কাজের সাব-ঠিকাদার হিসেবে দাবি করলেও, সংশ্লিষ্ট পাউবো কর্তৃপক্ষ তাকে চেনেন না এবং তার অনুকূলে কোনো কাজের বৈধ অনুমোদনও নেই। স্থানীয় লোকজনের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হওয়ায় বালু অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রির দায়ে তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
আইনসম্মত এই ব্যবস্থা নেওয়ার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে জরিমানা দেওয়া ব্যক্তি আলমগীর হোসেন ও তার সহযোগীরা এসি ল্যান্ডকে জড়িয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য শুরু করেন। এই কুচক্রী মহলটি নিজেদের অবৈধ স্বার্থ চরিতার্থ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাঘাটার সৎ ও কর্মঠ সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের অভিমত, সাঘাটার বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) একজন অত্যন্ত সৎ, সাহসী ও আপসহীন কর্মকর্তা। যোগদানের পর থেকেই তিনি উপজেলার যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, বর্তমান এসি ল্যান্ড যোগদানের পর থেকে সাধারণ মানুষ জমির নামজারি বা ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সেবা পেতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও দালালের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি নিয়মিত অফিসে বসে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভূমি জটিলতা নিরসন করে যাচ্ছেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল তার এই জনবান্ধব ভূমিকা ও কঠোর আইন প্রয়োগে বাধাগ্রস্ত করতে এবং নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই এমন মিথ্যাচারের পথ বেছে নিয়েছে।
সচেতন মহল ও স্থানীয় জনগণ এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















