সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনে নজিরবিহীন কাণ্ড: পৌর পার্কে পোনা অবমুক্তের পর মাছ তুলে নেওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ মৎস দপ্তর

‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই জমকালো স্লোগান আর ঢাকঢোল পিটিয়ে গাইবান্ধায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপিত হলেও নেপথ্যে ঘটেছে এক চরম নীতিহীন ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। ফটোসেশনের জন্য পৌর পার্ক পুকুরে পোনা অবমুক্ত করার পরপরই সেগুলো জাল দিয়ে তুলে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাংলোর পুকুরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা মৎস্য দপ্তরের বিরুদ্ধে। এমন লোকদেখানো ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

​রবিবার সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নানা আনুষ্ঠানিকতায় দিবসটির সূচনা হয়। এরপর শহরের প্রধান সড়কে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‍্যালি। র‍্যালি শেষে অতিথিদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে পৌর পার্কের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়।

​তবে অভিযোগ উঠেছে, অতিথিরা স্থান ত্যাগ করা এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বন্ধ হওয়ার পরপরই শুরু হয় আসল ‘নাটক’। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিলানীর উপস্থিতিতে অবমুক্ত করা সেই মাছগুলো তৎক্ষণাৎ পুকুর থেকে পুনরায় তুলে জেলা প্রশাসকের পুকুরে স্থানান্তর করা হয়। সরকারি অর্থ ও কর্মসূচির এমন চরম অপব্যবহার এবং লোকদেখানো প্রহসন দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে পড়েন। সচেতন মহলের প্রশ্ন—জাতীয় একটি কর্মসূচি কি কেবলই ফটোসেশন আর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করার হাতিয়ার?

​এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তবে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জিলানী কেন জেলা প্রশাসকের নাম জড়িয়ে এমন কাণ্ড ঘটালেন, সে বিষয়ে তার কাছে লিখিত জবাবদিহি চাওয়া হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দায়িত্বপুর্ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলা হলে তিনি হতবাক হয়ে যান, সেই সাথে জানান এটা জেলা প্রশাসক মহোদয় কে হেয় করার অপচেষ্টা মাত্র। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মৎস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।

​এদিকে খোদ জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্যে এমন জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সুধীসমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মসূচির নামে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া এবং এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয়

চাকরির টোপ ফেলে সর্বস্বান্ত করার মিশন! সাখাওয়াত চক্রের ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রকাশ্যে খুনের হুমকি

error: Content is protected !!

গাইবান্ধায় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনে নজিরবিহীন কাণ্ড: পৌর পার্কে পোনা অবমুক্তের পর মাছ তুলে নেওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ মৎস দপ্তর

প্রকাশের সময়: ০৪:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই জমকালো স্লোগান আর ঢাকঢোল পিটিয়ে গাইবান্ধায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপিত হলেও নেপথ্যে ঘটেছে এক চরম নীতিহীন ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। ফটোসেশনের জন্য পৌর পার্ক পুকুরে পোনা অবমুক্ত করার পরপরই সেগুলো জাল দিয়ে তুলে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাংলোর পুকুরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা মৎস্য দপ্তরের বিরুদ্ধে। এমন লোকদেখানো ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

​রবিবার সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নানা আনুষ্ঠানিকতায় দিবসটির সূচনা হয়। এরপর শহরের প্রধান সড়কে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‍্যালি। র‍্যালি শেষে অতিথিদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে পৌর পার্কের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়।

​তবে অভিযোগ উঠেছে, অতিথিরা স্থান ত্যাগ করা এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বন্ধ হওয়ার পরপরই শুরু হয় আসল ‘নাটক’। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিলানীর উপস্থিতিতে অবমুক্ত করা সেই মাছগুলো তৎক্ষণাৎ পুকুর থেকে পুনরায় তুলে জেলা প্রশাসকের পুকুরে স্থানান্তর করা হয়। সরকারি অর্থ ও কর্মসূচির এমন চরম অপব্যবহার এবং লোকদেখানো প্রহসন দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে পড়েন। সচেতন মহলের প্রশ্ন—জাতীয় একটি কর্মসূচি কি কেবলই ফটোসেশন আর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করার হাতিয়ার?

​এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তবে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জিলানী কেন জেলা প্রশাসকের নাম জড়িয়ে এমন কাণ্ড ঘটালেন, সে বিষয়ে তার কাছে লিখিত জবাবদিহি চাওয়া হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দায়িত্বপুর্ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলা হলে তিনি হতবাক হয়ে যান, সেই সাথে জানান এটা জেলা প্রশাসক মহোদয় কে হেয় করার অপচেষ্টা মাত্র। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মৎস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।

​এদিকে খোদ জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্যে এমন জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সুধীসমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মসূচির নামে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া এবং এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।