রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক অভিযান: তীব্র ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ​চাপ কমাতে ১০১ শয্যার নতুন উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা

জরুরি বিভাগে নেই কাঙ্ক্ষিত সেবা, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নার্সদের দায়িত্বহীনতা আর সরকারি ওষুধের বদলে রোগীদের হাতে বাইরে থেকে কেনা প্রেসক্রিপশন—২৫০ শয্যা বিশিষ্ট গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এমনই সব বেহাল চিত্র ও অনিয়মের থলে এক ধাক্কায় উন্মোচিত হলো স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ অভিযানে।

​রোববার কোনো প্রকার আগাম খবর বা প্রটোকল ছাড়াই হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সার্বিক চরম অব্যবস্থাপনা দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সাথে তিনি ভুক্তভোগী রোগীদের দুর্দশার জন্য দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দেন।

​​দুপুরে কোনো ধরনের তোড়জোড় বা সতর্কবার্তা ছাড়াই মন্ত্রী সোজা চলে যান সদর হাসপাতালের ভেতরে। জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন সাধারণ ওয়ার্ড ও কেন্দ্রীয় ওষুধ ভাণ্ডার পরিদর্শনের সময় চারপাশের জরাজীর্ণ অবস্থা চোখে পড়ে তাঁর।

​পরিদর্শনকালে সেবা নিতে আসা জঘন্য বাস্তবতার মুখোমুখি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা অভিযোগের ঝাঁপি খুলে ধরেন। তাঁরা জানান, বারবার ডাকার পরও মিলছে না নার্স বা সহকারীদের দেখা। সরকারি ভাণ্ডারে ওষুধ থাকা সত্ত্বেও তা দেওয়া হচ্ছে না রোগীদের, পাঠানো হচ্ছে বাইরের ফার্মেসিতে।

সুচিকিৎসার বদলে হাসপাতালের মেঝেতেই ধুঁকতে হচ্ছে অসচ্ছল মানুষদের।

​রোগীদের এসব বুকফাটা আর্তনাদ শুনে উপস্থিত জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সামনেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কড়া কণ্ঠে তিনি বলেন “জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা এই হাসপাতাল সেবার জন্য, লুটপাট আর চরম অব্যবস্থাপনার আখড়া বানানোর জন্য নয়। এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

​পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গাইবান্ধাবাসীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ও জেলা হাসপাতালের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ কমাতে উপজেলা পর্যায়ে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের বড় ধরনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার।

​অভিযানকালে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন,​জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা,​পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, ​সদর আসনর সংসদ সদস্য আব্দুল করিম,​সিভিল সার্জন: ডা. রফিকুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

​স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক কড়া বার্তার পর জিম্মি হয়ে থাকা সাধারণ রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের জং ধরা প্রশাসনিক কাঠামো কতটা পাল্টায়!

জনপ্রিয়

হাসপাতালে চরম অরাজকতা, হাতেনাতে ধরলেন মন্ত্রী! ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ, সতর্কবার্তা আর বরখাস্তের খড়্গ

error: Content is protected !!

​গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক অভিযান: তীব্র ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ​চাপ কমাতে ১০১ শয্যার নতুন উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা

প্রকাশের সময়: ০৫:২১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

জরুরি বিভাগে নেই কাঙ্ক্ষিত সেবা, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নার্সদের দায়িত্বহীনতা আর সরকারি ওষুধের বদলে রোগীদের হাতে বাইরে থেকে কেনা প্রেসক্রিপশন—২৫০ শয্যা বিশিষ্ট গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এমনই সব বেহাল চিত্র ও অনিয়মের থলে এক ধাক্কায় উন্মোচিত হলো স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ অভিযানে।

​রোববার কোনো প্রকার আগাম খবর বা প্রটোকল ছাড়াই হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সার্বিক চরম অব্যবস্থাপনা দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সাথে তিনি ভুক্তভোগী রোগীদের দুর্দশার জন্য দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দেন।

​​দুপুরে কোনো ধরনের তোড়জোড় বা সতর্কবার্তা ছাড়াই মন্ত্রী সোজা চলে যান সদর হাসপাতালের ভেতরে। জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন সাধারণ ওয়ার্ড ও কেন্দ্রীয় ওষুধ ভাণ্ডার পরিদর্শনের সময় চারপাশের জরাজীর্ণ অবস্থা চোখে পড়ে তাঁর।

​পরিদর্শনকালে সেবা নিতে আসা জঘন্য বাস্তবতার মুখোমুখি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা অভিযোগের ঝাঁপি খুলে ধরেন। তাঁরা জানান, বারবার ডাকার পরও মিলছে না নার্স বা সহকারীদের দেখা। সরকারি ভাণ্ডারে ওষুধ থাকা সত্ত্বেও তা দেওয়া হচ্ছে না রোগীদের, পাঠানো হচ্ছে বাইরের ফার্মেসিতে।

সুচিকিৎসার বদলে হাসপাতালের মেঝেতেই ধুঁকতে হচ্ছে অসচ্ছল মানুষদের।

​রোগীদের এসব বুকফাটা আর্তনাদ শুনে উপস্থিত জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সামনেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কড়া কণ্ঠে তিনি বলেন “জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা এই হাসপাতাল সেবার জন্য, লুটপাট আর চরম অব্যবস্থাপনার আখড়া বানানোর জন্য নয়। এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

​পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গাইবান্ধাবাসীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ও জেলা হাসপাতালের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ কমাতে উপজেলা পর্যায়ে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের বড় ধরনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার।

​অভিযানকালে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন,​জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা,​পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, ​সদর আসনর সংসদ সদস্য আব্দুল করিম,​সিভিল সার্জন: ডা. রফিকুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

​স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক কড়া বার্তার পর জিম্মি হয়ে থাকা সাধারণ রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের জং ধরা প্রশাসনিক কাঠামো কতটা পাল্টায়!