
মানুষ চিরস্থায়ী নয়, মানুষের কর্মই চিরস্থায়ী। তাই আমি আমার কর্মের মাধ্যমেই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই। ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, এলাকার মানুষের জন্য বৃহৎ পরিসরে সেবা করার লক্ষ্যেই আমার রাজনীতি।
কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সুযোগ্য প্রশাসক ডাঃ ময়নুল হাসান সাদিক। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিজের এই দর্শন ও কাজের মাধ্যমে তিনি জয় করে নিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষের মন। প্রচলিত ধারার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

দায়িত্বভার গ্রহণ করেই ডাঃ ময়নুল হাসান সাদিক তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন মুক্তিযুদ্ধের মহান নায়কদের সম্মানের মাধ্যমে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানিয়ে তিনি জেলা পরিষদের শুভ সূচনা করেন, যা সুধী মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
জেলার বেকারত্ব দূর করতে তিনি গ্রহণ করেছেন যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে, শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে বেকার যুবক-যুবতীদের বিভিন্ন কারিগরি ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে সনদ এবং কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয় মূলধন। এর ফলে অনেক বেকার তরুণ-তরুণী আজ স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
গ্রামের অবহেলিত রাস্তাঘাট পাকা করে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করছেন।
সুষম ও সমতাভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যখাতে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের অবদান এখন দৃশ্যমান। জেলা পরিষদের অর্থায়নে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে মানবিকতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
পূর্ববর্তী অনেক জনপ্রতিনিধির ধারা বদলে ডাঃ ময়নুল হাসান সাদিক প্রমাণ করেছেন—জনসেবাই শেষ কথা।
কোনো রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি, আর্থিক অনিয়ম বা নৈতিক স্খলনের দাগ স্পর্শ করতে পারেনি তাঁর ভাবমূর্তিকে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতীক হয়ে তিনি আজ দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে একজন সত্যিকারের নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভাজন ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে আবেগপ্লুত কণ্ঠে ডাঃ ময়নুল হাসান সাদিক বলেন, রাজনীতি থেকে আমার ব্যক্তিগত পাওয়ার কিছু নেই। আমি আমার জীবদ্দশায় এমন কিছু কাজ করে যেতে চাই, যেন মৃত্যুর পরও মানুষ আমাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখে। আমার কথা মনে পড়লে মানুষ যদি ভালোবেসে দু’ফোটা চোখের জল ফেলে, তবেই আমার স্বপ্ন সার্থক, আমার পরিশ্রম ও রাজনীতি সার্থক, এবং আমার জীবন ও মরণ সার্থক হবে।
একজন প্রকৃত জনসেবকের এই নিঃস্বার্থ কর্মযজ্ঞ ও আদর্শ গাইবান্ধা জেলা পরিষদকে সাধারণ মানুষের আশার আলোয় পরিণত করেছে। জনকল্যাণমুখী এই যাত্রায় জেলাবাসী তাঁর দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








