সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যৌতুকের দাবিতে পাষণ্ড স্বামীর বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে শ্রাবণী আক্তার (২৩) নামে দুই সন্তানের এক জননী হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম শ্রাবণীর শরীরে শতাধিক সেলাই লেগেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত স্বামী সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

​ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর পূর্বে পলাশবাড়ী পৌরসভার আমবাড়ী গ্রামের আমছার আলীর ছেলে জনি মিয়ার (৩২) সঙ্গে মহদীপুর ইউনিয়নের গারানাটা গ্রামের ছামছুল মিয়ার মেয়ে শ্রাবণী আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই জনি মিয়া যৌতুকের দাবিতে শ্রাবণীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে পরিবারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারও দেওয়া হয়।

​অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি পুনরায় যৌতুকের টাকা দাবি করে জনি। শ্রাবণী বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে গভীর রাতে তার ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় বর্বরতা। একপর্যায়ে শ্রাবণীকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তাতে ব্যর্থ হয়ে ঘরে থাকা ধারালো বঁটি দিয়ে শ্রাবণীর মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।

​পরদিন সকালে মুমূর্ষু অবস্থায় শ্রাবণীকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

​শ্রাবণীর পিতা ছামছুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনা আড়াল করতে পাষণ্ড জনি হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ভর্তি করায়। আমার মেয়ের মাথা ও শরীরে শতাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমি এই নারকীয় নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

জনপ্রিয়

চাকরির টোপ ফেলে সর্বস্বান্ত করার মিশন! সাখাওয়াত চক্রের ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রকাশ্যে খুনের হুমকি

error: Content is protected !!

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা

প্রকাশের সময়: ০৬:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যৌতুকের দাবিতে পাষণ্ড স্বামীর বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে শ্রাবণী আক্তার (২৩) নামে দুই সন্তানের এক জননী হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম শ্রাবণীর শরীরে শতাধিক সেলাই লেগেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত স্বামী সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

​ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর পূর্বে পলাশবাড়ী পৌরসভার আমবাড়ী গ্রামের আমছার আলীর ছেলে জনি মিয়ার (৩২) সঙ্গে মহদীপুর ইউনিয়নের গারানাটা গ্রামের ছামছুল মিয়ার মেয়ে শ্রাবণী আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই জনি মিয়া যৌতুকের দাবিতে শ্রাবণীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে পরিবারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারও দেওয়া হয়।

​অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি পুনরায় যৌতুকের টাকা দাবি করে জনি। শ্রাবণী বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে গভীর রাতে তার ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় বর্বরতা। একপর্যায়ে শ্রাবণীকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তাতে ব্যর্থ হয়ে ঘরে থাকা ধারালো বঁটি দিয়ে শ্রাবণীর মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।

​পরদিন সকালে মুমূর্ষু অবস্থায় শ্রাবণীকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

​শ্রাবণীর পিতা ছামছুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনা আড়াল করতে পাষণ্ড জনি হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ভর্তি করায়। আমার মেয়ের মাথা ও শরীরে শতাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমি এই নারকীয় নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”