সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরির টোপ ফেলে সর্বস্বান্ত করার মিশন! সাখাওয়াত চক্রের ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রকাশ্যে খুনের হুমকি

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ পরিবারকে ফাঁদে ফেলে ব্লাঙ্ক চেক, স্ট্যাম্প এবং নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক দুর্ধর্ষ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর ছেলেকে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তিনটি ব্লাঙ্ক ব্যাংক চেক ও তিনটি স্ট্যাম্প হাতিয়ে নেওয়ার পর, তা ফেরত দেওয়ার নামে নগদ ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাখাওয়াত হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

​এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোছাঃ শিরিনা বেগম (৪৫)। অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন উত্তর ঘাগোয়া (নতুনগ্রাম) এলাকার মৃত নুরুন্নবীর ছেলে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাখাওয়াত হোসেন ও তার সাথে জড়িত ৫-৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র শিরিনা বেগমের ছেলেকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। চাকরির প্রক্রিয়ার কথা বলে চক্রটি কৌশলে তিনটি ব্লাঙ্ক চেকের পাতা এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় শিরিনা বেগম কাগজপত্র ফেরত চাইলে প্রতারক চক্রের অজ্ঞাত সদস্যরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

​পরবর্তীতে অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন মধ্যস্থতাকারী সেজে ওই চেক ও স্ট্যাম্পগুলো ফেরত এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং শিরিনা বেগমের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে। নিরুপায় হয়ে শিরিনা বেগম রাজি হলে, গত ২৫ মার্চ (সকাল ১০টায়) সাখাওয়াত হোসেন তার বাড়িতে এসে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নগদ ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা গ্রহণ করে।

টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন পার হলেও চেক কিংবা স্ট্যাম্প ফেরত দেয়নি সাখাওয়াত। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু করে এবং ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই সকালে শিরিনা বেগম পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে সাখাওয়াত ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তার ভাই আনারুলকে প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দেয় এবং কোথাও অভিযোগ করলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুঁশিয়ারি দেয়।

​স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।

​ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা সাখাওয়াত হোসেনসহ জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

জনপ্রিয়

চাকরির টোপ ফেলে সর্বস্বান্ত করার মিশন! সাখাওয়াত চক্রের ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রকাশ্যে খুনের হুমকি

error: Content is protected !!

চাকরির টোপ ফেলে সর্বস্বান্ত করার মিশন! সাখাওয়াত চক্রের ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রকাশ্যে খুনের হুমকি

প্রকাশের সময়: ০৭:০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ পরিবারকে ফাঁদে ফেলে ব্লাঙ্ক চেক, স্ট্যাম্প এবং নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক দুর্ধর্ষ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর ছেলেকে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তিনটি ব্লাঙ্ক ব্যাংক চেক ও তিনটি স্ট্যাম্প হাতিয়ে নেওয়ার পর, তা ফেরত দেওয়ার নামে নগদ ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাখাওয়াত হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

​এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোছাঃ শিরিনা বেগম (৪৫)। অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন উত্তর ঘাগোয়া (নতুনগ্রাম) এলাকার মৃত নুরুন্নবীর ছেলে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাখাওয়াত হোসেন ও তার সাথে জড়িত ৫-৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র শিরিনা বেগমের ছেলেকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। চাকরির প্রক্রিয়ার কথা বলে চক্রটি কৌশলে তিনটি ব্লাঙ্ক চেকের পাতা এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় শিরিনা বেগম কাগজপত্র ফেরত চাইলে প্রতারক চক্রের অজ্ঞাত সদস্যরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

​পরবর্তীতে অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন মধ্যস্থতাকারী সেজে ওই চেক ও স্ট্যাম্পগুলো ফেরত এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং শিরিনা বেগমের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে। নিরুপায় হয়ে শিরিনা বেগম রাজি হলে, গত ২৫ মার্চ (সকাল ১০টায়) সাখাওয়াত হোসেন তার বাড়িতে এসে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নগদ ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা গ্রহণ করে।

টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন পার হলেও চেক কিংবা স্ট্যাম্প ফেরত দেয়নি সাখাওয়াত। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু করে এবং ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই সকালে শিরিনা বেগম পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে সাখাওয়াত ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তার ভাই আনারুলকে প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দেয় এবং কোথাও অভিযোগ করলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুঁশিয়ারি দেয়।

​স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।

​ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা সাখাওয়াত হোসেনসহ জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।