
জমির সামান্য আইল কাটা নিয়ে বিরোধ গড়িয়েছিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোদাল আর লাঠির আঘাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন শাহাদাৎ হোসেন নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘ ১৪ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সেই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আপন তিন সহোদরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর (বাড়াইকান্দি) গ্রামের মৃত ইব্রাহীম ব্যাপারির তিন ছেলে আবদুল হালিম (৩৯), আবদুল হামিদ (৩৭) ও মাহাবুর রহমান (৩৫)।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোল্ল্যা সাইফুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি সকালে। শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা (আইল) কাটতে যান আসামিরা। এতে বাধা দেন জমির ওয়ারিশ শাহাদাৎ হোসেন ও তাঁর স্বজনরা। তর্কের একপর্যায়ে আসামিরা কোদাল ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালালে শাহাদাৎ হোসেনসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় শাহাদাৎকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন (৫ জানুয়ারি) সকালে মারা যান তিনি।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বজন আতাউর রহমান বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “দীর্ঘ ১৪ বছর পর সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় তিন ভাই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন, পরে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 















