বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চেয়ারম্যানের ক্ষমতার জোর ভাঙল আদালতের আদেশে, পর্নোগ্রাফি মামলায় কারাগারে ২

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৪:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৯ বার পড়া হয়েছে

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও পর্নোগ্রাফি মামলায় আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করেছেন চার আসামি। শুনানি শেষে ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

​মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাবুর রহমান এই আদেশ দেন।

​কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের চক নারায়ণ গ্রামের আলমগীর আকন্দের ছেলে মো. সালেহীন আকন্দ (২৪) এবং রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও বৈষ্ণবদা গ্রামের মফিজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (৪০)। এছাড়া মামলায় অপর দুই আসামি শ্রী প্রদীপ কুমার ও রবিউল আকন্দকে মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এর আগে ওই শিক্ষিকা ভুক্তভোগী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই মামলা তুলে নিতে ও তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মরিয়া হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম আসামি সালেহীন আকন্দ ভুক্তভোগী নারীর ব্যক্তিগত কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও গোপনে ধারণ করেন। পরবর্তীতে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে সহযোগিতা ও প্রচারের মূল দায়িত্বে ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এমন আপত্তিকর দৃশ্য দেখে ভেঙে পড়েন ওই শিক্ষিকা। পরবর্তীতে পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১), ৮(২) ও ৮(৭) ধারায় সাদুল্লাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মঙ্গলবার মামলার চার আসামি আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানান। উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ও সালেহীন আকন্দের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে অপর দুই আসামিকে জামিন দেন আদালত।

​আদালতের এই রায়ের পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। তিনি বলেন, “আমি একজন স্কুলশিক্ষিকা। আমার সম্মান ধূলিসাৎ করতেই এই নোংরা খেলায় মেতেছিল তারা। আমি অনেক মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছি। আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোয় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা আরও জোরালো হয়েছে। আমি কারও কাছে প্রতিশোধ চাই না, শুধু নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই।”

​বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার বলেন, “নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানি করা অত্যন্ত গুরুতর ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আদালতের কাছে সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছি।”

জনপ্রিয়

যুবদল নেতার আস্ফালন”পুলিশ আমাদের কিছু করতে পারবে না”, রংপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে জমি দখল ও লাশ গুমের হুমকি

error: Content is protected !!

চেয়ারম্যানের ক্ষমতার জোর ভাঙল আদালতের আদেশে, পর্নোগ্রাফি মামলায় কারাগারে ২

প্রকাশের সময়: ০৪:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও পর্নোগ্রাফি মামলায় আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করেছেন চার আসামি। শুনানি শেষে ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

​মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাবুর রহমান এই আদেশ দেন।

​কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের চক নারায়ণ গ্রামের আলমগীর আকন্দের ছেলে মো. সালেহীন আকন্দ (২৪) এবং রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও বৈষ্ণবদা গ্রামের মফিজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (৪০)। এছাড়া মামলায় অপর দুই আসামি শ্রী প্রদীপ কুমার ও রবিউল আকন্দকে মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এর আগে ওই শিক্ষিকা ভুক্তভোগী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই মামলা তুলে নিতে ও তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মরিয়া হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম আসামি সালেহীন আকন্দ ভুক্তভোগী নারীর ব্যক্তিগত কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও গোপনে ধারণ করেন। পরবর্তীতে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে সহযোগিতা ও প্রচারের মূল দায়িত্বে ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এমন আপত্তিকর দৃশ্য দেখে ভেঙে পড়েন ওই শিক্ষিকা। পরবর্তীতে পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১), ৮(২) ও ৮(৭) ধারায় সাদুল্লাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মঙ্গলবার মামলার চার আসামি আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানান। উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ও সালেহীন আকন্দের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে অপর দুই আসামিকে জামিন দেন আদালত।

​আদালতের এই রায়ের পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। তিনি বলেন, “আমি একজন স্কুলশিক্ষিকা। আমার সম্মান ধূলিসাৎ করতেই এই নোংরা খেলায় মেতেছিল তারা। আমি অনেক মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছি। আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোয় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা আরও জোরালো হয়েছে। আমি কারও কাছে প্রতিশোধ চাই না, শুধু নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই।”

​বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার বলেন, “নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানি করা অত্যন্ত গুরুতর ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আদালতের কাছে সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছি।”