বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি রাস্তা দখল করে গেট নির্মাণ: উন্নয়নকাজ বন্ধে ফুসে উঠেছেন এলাকাবাসী

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৯ নম্বর খোলাহাটী ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় সরকারি রাস্তা জোরপূর্বক দখল করে টিনের বেড়া ও গেট নির্মাণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে সরকারের চলমান আরসিসি (RCC) রাস্তা বর্ধিতকরণ কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালীদের এমন অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ ও থমকে যাওয়া উন্নয়নকাজ দ্রুত চালুর দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকার প্রধান সড়ক থেকে মো. আলমগীরের বাড়ি পর্যন্ত একটি আরসিসি রাস্তা নির্মাণের কাজ অনুমোদন পায়। সম্প্রতি রাস্তাটি বর্ধিতকরণের কাজ শুরু হলে স্থানীয় মো. সাজু মিয়া (পেশকার), তাঁর ছেলে সৌরভ মিয়া এবং তাঁদের অনুসারীরা গায়ের জোরে সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তার ওপর টিনের বেড়া ও গেট নির্মাণ করেন। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং চলমান উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

​ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম সরদার, আব্দুল মান্নান ও মো. জিল্লুর রহমানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অবরুদ্ধ পথ সুগম করতে টিনের বেড়া অপসারণ এবং সীমানার গাছ কেটে ফেলার আকুতি জানানো হলে অভিযুক্ত সাজু মিয়া উল্টো তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। সরকারি উন্নয়নকাজে নগ্ন বাধা প্রদান এবং চলাচলের প্রধান পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকার শতাধিক পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে খোলাহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম হক্কানি বলেন, “অভিযুক্তদের অবৈধ টিনের বেড়া ও গেট অবিলম্বে সরিয়ে নিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা নানা বাহানা তৈরি করে সময় পার করছে এবং তোয়াক্কা করছে না।”

​সরকারি জায়গা দখল ও উন্নয়নকাজ পণ্ড করার মতো দুর্ধর্ষ ঘটনায় এলাকাবাসী এখন চরম ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে এ অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ, রাস্তার সীমানার বাধা অপসারণ এবং উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করে চলাচলের উপযোগী করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

জনপ্রিয়

জ্বালানি তেল আমদানি ও রেলসহ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী) এর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

error: Content is protected !!

সরকারি রাস্তা দখল করে গেট নির্মাণ: উন্নয়নকাজ বন্ধে ফুসে উঠেছেন এলাকাবাসী

প্রকাশের সময়: ০৭:২১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৯ নম্বর খোলাহাটী ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় সরকারি রাস্তা জোরপূর্বক দখল করে টিনের বেড়া ও গেট নির্মাণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে সরকারের চলমান আরসিসি (RCC) রাস্তা বর্ধিতকরণ কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালীদের এমন অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ ও থমকে যাওয়া উন্নয়নকাজ দ্রুত চালুর দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকার প্রধান সড়ক থেকে মো. আলমগীরের বাড়ি পর্যন্ত একটি আরসিসি রাস্তা নির্মাণের কাজ অনুমোদন পায়। সম্প্রতি রাস্তাটি বর্ধিতকরণের কাজ শুরু হলে স্থানীয় মো. সাজু মিয়া (পেশকার), তাঁর ছেলে সৌরভ মিয়া এবং তাঁদের অনুসারীরা গায়ের জোরে সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তার ওপর টিনের বেড়া ও গেট নির্মাণ করেন। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং চলমান উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

​ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম সরদার, আব্দুল মান্নান ও মো. জিল্লুর রহমানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অবরুদ্ধ পথ সুগম করতে টিনের বেড়া অপসারণ এবং সীমানার গাছ কেটে ফেলার আকুতি জানানো হলে অভিযুক্ত সাজু মিয়া উল্টো তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। সরকারি উন্নয়নকাজে নগ্ন বাধা প্রদান এবং চলাচলের প্রধান পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকার শতাধিক পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে খোলাহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম হক্কানি বলেন, “অভিযুক্তদের অবৈধ টিনের বেড়া ও গেট অবিলম্বে সরিয়ে নিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা নানা বাহানা তৈরি করে সময় পার করছে এবং তোয়াক্কা করছে না।”

​সরকারি জায়গা দখল ও উন্নয়নকাজ পণ্ড করার মতো দুর্ধর্ষ ঘটনায় এলাকাবাসী এখন চরম ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে এ অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ, রাস্তার সীমানার বাধা অপসারণ এবং উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করে চলাচলের উপযোগী করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।