
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা ভ্যাকসিন, অথচ রোগীদের পকেট কেটে তা কিনতে পাঠানো হচ্ছে ফার্মেসিতে! গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছিল তেমনই এক রামরাজত্ব। তবে এবার আর পার পারলেন না অসাধু স্বাস্থ্যকর্মীরা। রোববার সকালে না জানিয়েই আচমকা হাসপাতালে হাজির হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আর মন্ত্রীর এই সারপ্রাইজ ভিজিটেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে!
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না, এমনকি অনুপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজেও। ঠিক সেই সুযোগেই ঘটে আসল বিস্ফোরণ!
কুকুরের কামড়ে ক্ষতবশত শরীরে যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন শামসুন্নাহার নামের এক ভুক্তভোগী নারী। হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত ছিল, তবুও হাসপাতালের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—“ভ্যাকসিন বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে।” বাধ্য হয়ে ১ হাজার ৩০ টাকা গুনে বাইরে থেকেই ভ্যাকসিন কিনতে হয় ওই রোগীকে।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় মন্ত্রী হাসপাতালে পা রাখতেই সেই নারী বুকভরা ক্ষোভ নিয়ে সোজাসুজি মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ ঠুকে দেন।
রোগীর মুখে এমন দুর্নীতির কথা শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে বরফ গলে আগুনে রূপ নেয় পরিস্থিতি,মন্ত্রী সাথে সাথে ফোন দেন ছুটিতে/বাইরে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দকে।
মজুত ভ্যাকসিন লুকিয়ে রেখে রোগীকে ভোগান্তিতে ফেলার অপরাধে অভিযুক্ত সেকমো হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের কড়া নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
শুধু বরখাস্তই নয়, যাওয়ার সময় মন্ত্রী কড়া গলায় জানিয়ে দেন—অভিযোগকারী রোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া ১ হাজার ৩০ টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। টাকা ফেরত দিলে বরখাস্তের আদেশ পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলেও এক প্রকার আল্টিমেটাম দেন তিনি।
জরুরী বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমানকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য দেওয়া হয়েছে কড়া সতর্কবার্তা (ওয়ার্নিং লেটার)।
”আমরা তো জানতামই না মন্ত্রী মহোদয় চলে আসবেন! আমি আদালতের কাজে বগুড়ায় ছিলাম, খবর পেয়েই ছুটে আসি।”এমনটাই বললেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ।
গোবিন্দগঞ্জের অসাধু কর্মকর্তাদের ঘাম ছুটিয়ে দুপুর ২টায় মন্ত্রী সরাসরি হাজির হন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে। পুরো হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে রোগীদের সাথে নিজে কথা বলেন এবং চিকিৎসাব্যবস্থা সরাসরি পরখ করেন। এ সময় উপস্থিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সোজা ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রোগীদের সেবায় কোনো রকমের টালবাহানা বা অবহেলা সহ্য করা হবে না। চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করতেই হবে।
মন্ত্রীর এই ঝটিকা অভিযানে জেলাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ রোগীরা!
নিজস্ব প্রতিবেদক 








