বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাঘাটায় শতাধিক অবৈধ কয়লা চুল্লির রমরমা কারবার: নোটিশের তিন মাসেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই, হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৪:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নে লোকালয় ও তিন ফসলি জমির বুক চিরে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ কয়লা তৈরির কারখানা। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আইনি নোটিশ জারির তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে চুল্লিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের দায়সারা অভিযান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে কাঠ পোড়ানো শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

​সরেজমিনে জানা যায়, কামালেরপাড়া ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ি, গড়গড়িয়া ও কিংকরপুর এলাকায় দিনরাত কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছে শতাধিক অবৈধ চুল্লি। একাধিকবার স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের তৎপরতা ছিল নামমাত্র। সম্প্রতি কাঁঠালতলী এলাকায় একটি কারখানা ভেঙে প্রশাসন দায়িত্ব শেষ করলেও পাশের গড়গড়িয়া ও বাঙ্গাবাড়ির চুল্লিগুলোতে পুরোদমে কাঠ পোড়ানো চলছে।

​স্থানীয়দের ক্ষোভ, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানগুলো কেবলই ‘লোক দেখানো’। মাঝেমধ্যে ফায়ার সার্ভিস নিয়ে এসে চুল্লির কিছু ইট খুলে দেওয়া হলেও কোনো জরিমানা বা মামলা করা হয় না। অভিযান শেষ হওয়ার দু-তিন দিনের মধ্যেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আবার নতুন করে চুল্লি চালু করে।

​চুল্লিগুলোর কারণে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ অবাধে নিধন হচ্ছে। দিনরাত নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া আচ্ছন্ন করে রাখছে গোটা এলাকা। এতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও চোখের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। ধোঁয়া ও গ্যাসের প্রভাবে খেতের ধানের শীষ বিবর্ণ হচ্ছে, অকালে ঝরে পড়ছে আম ও কাঁঠালের মুকুল এবং নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা।

​পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে গত ১৭ জুন অবৈধ চুল্লিগুলো বন্ধের জন্য আইনি নোটিশ জারি করা হলেও তিন মাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—কাগজে-কলমে নোটিশ জারির পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার পেছনে কোনো গোপন সমঝোতা রয়েছে কি না।

​প্রশাসনের সমন্বয়হীনতাও স্পষ্ট। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হবে।’ অন্যদিকে কারখানা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) আজহারুল ইসলাম পূর্বে জানিয়েছিলেন, পর্যায়ক্রমে সবগুলো চুল্লি ভেঙে ফেলা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

​সচেতন মহলের দাবি, কামালেরপাড়াকে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে নোটিশপ্রাপ্ত চুল্লি মালিকদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু চুল্লি ভেঙে দেওয়া নয়, মজুত করা কাঠ বাজেয়াপ্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

জনপ্রিয়

বিএনপির মিছিলের ৩ ঘণ্টা পর ছাত্রলীগের পাল্টা শোডাউন: থানা ফটকে পুলিশের ধাওয়া, আটক ১৩ জন কারাগারে

error: Content is protected !!

সাঘাটায় শতাধিক অবৈধ কয়লা চুল্লির রমরমা কারবার: নোটিশের তিন মাসেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই, হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

প্রকাশের সময়: ০৪:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নে লোকালয় ও তিন ফসলি জমির বুক চিরে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ কয়লা তৈরির কারখানা। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আইনি নোটিশ জারির তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে চুল্লিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের দায়সারা অভিযান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে কাঠ পোড়ানো শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

​সরেজমিনে জানা যায়, কামালেরপাড়া ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ি, গড়গড়িয়া ও কিংকরপুর এলাকায় দিনরাত কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছে শতাধিক অবৈধ চুল্লি। একাধিকবার স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের তৎপরতা ছিল নামমাত্র। সম্প্রতি কাঁঠালতলী এলাকায় একটি কারখানা ভেঙে প্রশাসন দায়িত্ব শেষ করলেও পাশের গড়গড়িয়া ও বাঙ্গাবাড়ির চুল্লিগুলোতে পুরোদমে কাঠ পোড়ানো চলছে।

​স্থানীয়দের ক্ষোভ, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানগুলো কেবলই ‘লোক দেখানো’। মাঝেমধ্যে ফায়ার সার্ভিস নিয়ে এসে চুল্লির কিছু ইট খুলে দেওয়া হলেও কোনো জরিমানা বা মামলা করা হয় না। অভিযান শেষ হওয়ার দু-তিন দিনের মধ্যেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আবার নতুন করে চুল্লি চালু করে।

​চুল্লিগুলোর কারণে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ অবাধে নিধন হচ্ছে। দিনরাত নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া আচ্ছন্ন করে রাখছে গোটা এলাকা। এতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও চোখের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। ধোঁয়া ও গ্যাসের প্রভাবে খেতের ধানের শীষ বিবর্ণ হচ্ছে, অকালে ঝরে পড়ছে আম ও কাঁঠালের মুকুল এবং নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা।

​পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে গত ১৭ জুন অবৈধ চুল্লিগুলো বন্ধের জন্য আইনি নোটিশ জারি করা হলেও তিন মাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—কাগজে-কলমে নোটিশ জারির পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার পেছনে কোনো গোপন সমঝোতা রয়েছে কি না।

​প্রশাসনের সমন্বয়হীনতাও স্পষ্ট। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হবে।’ অন্যদিকে কারখানা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) আজহারুল ইসলাম পূর্বে জানিয়েছিলেন, পর্যায়ক্রমে সবগুলো চুল্লি ভেঙে ফেলা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

​সচেতন মহলের দাবি, কামালেরপাড়াকে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে নোটিশপ্রাপ্ত চুল্লি মালিকদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু চুল্লি ভেঙে দেওয়া নয়, মজুত করা কাঠ বাজেয়াপ্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।