বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতেই দুঃসাহসিক জালিয়াতি! বিচারক-পেশকারের সই জাল করে পলাতক আসামির ভুয়া জামিননামা তৈরি: মহুরি শাহীন পলাতক! রবিবারে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৫:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও পেশকারের স্বাক্ষর জাল করে এক পলাতক আসামির ভুয়া জামিননামা ও পরোয়ানা প্রত্যাহারের আদেশ (রিকল) তৈরির এক চাঞ্চল্যকর ও দুঃসাহসিক জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক ছুটিতে থাকার সুযোগে সংশ্লিষ্ট মামলার মহুরি (আইনজীবীর সহকারী) শাহীন এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে থানায় ভুয়া নথি পাঠান বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মহুরি গা-ঢাকা দিয়েছেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা গ্রামের মো. জান্নাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী সুমি খাতুন যৌতুকের দাবিতে মারপিট ও নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৮(গ)/২০২১)। উক্ত মামলার প্রধান আসামি জান্নাতুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।

​অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক ছুটিতে থাকা অবস্থায় মামলার মহুরি শাহীন অত্যন্ত সুচতুরভাবে বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকারের স্বাক্ষর জাল করেন। এরপর আসামি জান্নাতুল ইসলামের নামে একটি সম্পূর্ণ ভুয়া জামিননামা ও রিকল তৈরি করে তা সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করেন।

​পরবর্তীতে থানা কর্তৃপক্ষ জামিননামা ও রিকলের সত্যতা নিশ্চিত হতে আদালতে পেশকারের সাথে যোগাযোগ করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় পুরো আদালত চত্বরে তোলপাড় শুরু হয়।

​ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পেশকার গাজী আলী আহসান বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত হওয়ার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট থানাকে জানিয়ে দিই যে জামিননামাটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং আসামি জান্নাতুলের কোনো জামিন হয়নি। বিষয়টি থানায় অবহিত করার পরপরই আমি মামলার মহুরি শাহীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু সে আমার ফোন রিসিভ করেনি, উল্টো বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সে আত্মগোপনে চলে গেছে।

​পেশকার আরও জানান, “ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে আমি ছুটিতে থাকা বিজ্ঞ বিচারককে মুঠোফোনে অবহিত করি এবং জালিয়াত চক্রের মূল হোতা মহুরি শাহীন ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের অনুমতি চাই। বিজ্ঞ বিচারক জানিয়েছেন, আগামী রবিবার তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিষয়ে মহুরী শাহিনের ব্যবহৃত 01743…..335 এই নাম্বারে বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর একবার ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথেই ফোন টি কেটে দেন।

​আদালতের মতো সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল অঙ্গনে বিচারক ও পেশকারের স্বাক্ষর জাল করে পলাতক আসামির জামিননামা তৈরির মতো দুঃসাহসিক জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবীরা।

জনপ্রিয়

সুন্দরগঞ্জে আ.লীগ-যুবলীগ নেতা আটক

error: Content is protected !!

আদালতেই দুঃসাহসিক জালিয়াতি! বিচারক-পেশকারের সই জাল করে পলাতক আসামির ভুয়া জামিননামা তৈরি: মহুরি শাহীন পলাতক! রবিবারে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

প্রকাশের সময়: ০৫:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও পেশকারের স্বাক্ষর জাল করে এক পলাতক আসামির ভুয়া জামিননামা ও পরোয়ানা প্রত্যাহারের আদেশ (রিকল) তৈরির এক চাঞ্চল্যকর ও দুঃসাহসিক জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক ছুটিতে থাকার সুযোগে সংশ্লিষ্ট মামলার মহুরি (আইনজীবীর সহকারী) শাহীন এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে থানায় ভুয়া নথি পাঠান বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মহুরি গা-ঢাকা দিয়েছেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা গ্রামের মো. জান্নাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী সুমি খাতুন যৌতুকের দাবিতে মারপিট ও নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৮(গ)/২০২১)। উক্ত মামলার প্রধান আসামি জান্নাতুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।

​অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক ছুটিতে থাকা অবস্থায় মামলার মহুরি শাহীন অত্যন্ত সুচতুরভাবে বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকারের স্বাক্ষর জাল করেন। এরপর আসামি জান্নাতুল ইসলামের নামে একটি সম্পূর্ণ ভুয়া জামিননামা ও রিকল তৈরি করে তা সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করেন।

​পরবর্তীতে থানা কর্তৃপক্ষ জামিননামা ও রিকলের সত্যতা নিশ্চিত হতে আদালতে পেশকারের সাথে যোগাযোগ করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় পুরো আদালত চত্বরে তোলপাড় শুরু হয়।

​ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পেশকার গাজী আলী আহসান বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত হওয়ার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট থানাকে জানিয়ে দিই যে জামিননামাটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং আসামি জান্নাতুলের কোনো জামিন হয়নি। বিষয়টি থানায় অবহিত করার পরপরই আমি মামলার মহুরি শাহীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু সে আমার ফোন রিসিভ করেনি, উল্টো বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সে আত্মগোপনে চলে গেছে।

​পেশকার আরও জানান, “ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে আমি ছুটিতে থাকা বিজ্ঞ বিচারককে মুঠোফোনে অবহিত করি এবং জালিয়াত চক্রের মূল হোতা মহুরি শাহীন ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের অনুমতি চাই। বিজ্ঞ বিচারক জানিয়েছেন, আগামী রবিবার তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিষয়ে মহুরী শাহিনের ব্যবহৃত 01743…..335 এই নাম্বারে বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর একবার ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথেই ফোন টি কেটে দেন।

​আদালতের মতো সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল অঙ্গনে বিচারক ও পেশকারের স্বাক্ষর জাল করে পলাতক আসামির জামিননামা তৈরির মতো দুঃসাহসিক জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবীরা।