শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনদুপুরে সাব-রেজিস্ট্রারকে ‘তুলে নিয়ে গেল’ যুবকেরা: ৪০ মিনিট পর ফিরলেন আতঙ্কিত হয়ে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৩:০২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

খুলনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে থেকে দিনদুপুরে সদর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে জোরপূর্বক রিকশা থেকে নামিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৪০ মিনিট পর তিনি ফিরে এলেও ঘটনাটিকে ঘিরে নগরজুড়ে চরম আতঙ্ক ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দপ্তরের সামনে থেকে খোদ একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে এভাবে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে খাবারের বিরতিতে কার্যালয় থেকে বের হয়ে একটি রিকশায় ওঠেন তন্ময় কুমার মণ্ডল। মুহূর্তের মধ্যেই ৩-৪টি মোটরসাইকেলে করে এসে একদল যুবক রিকশাটির গতিরোধ করে। তাদের দুজন জোর করে সাব-রেজিস্ট্রারের রিকশায় চেপে বসে এবং কিছু দূর নিয়ে গিয়ে তাঁকে একটি মোটরসাইকেলে তোলে। এরপর দ্রুতগতিতে নগরীর কালীবাড়ি ঘাট এলাকার দিকে চলে যায় তারা।

​খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও সম্ভাব্য রুটগুলোতে তৎপরতা শুরু করে। ঘটনার প্রায় ৪০ মিনিট পর একটি রিকশায় করে কার্যালয়ে ফিরে আসেন তন্ময় কুমার মণ্ডল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ফিরে আসার সময় ওই কর্মকর্তা ছিলেন মারাত্মক আতঙ্কিত, বিধ্বস্ত ও ঘর্মাক্ত।

​তবে পুরো ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা নিজেই। কারা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল—সে বিষয়ে মুখ খুলতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, “কয়েকজন যুবক কালীবাড়ি ঘাটের একটি দোকানে নিয়ে কিছু নথিপত্র ঠিক আছে কি না দেখতে চেয়েছিল; দেখা শেষে তারাই আবার রিকশায় পাঠিয়ে দিয়েছে।” একজন সরকারি কর্মকর্তাকে নিজ কার্যালয়ের সামনে থেকে জিম্মি করে ব্যক্তিগত দোকানে নিয়ে ‘নথিপত্র যাচাই’ করানোর এই নজিরবিহীন দাবি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র গুঞ্জন চলছে।

​খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক মাঠে নামে। পরে সাব-রেজিস্ট্রার নিরাপদে ফিরে আসেন।

​এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর কালীবাড়ি ঘাট এলাকায় ‘বি কোম্পানি’ নামের একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া দৌরাত্ম্য রয়েছে। চক্রটি কোনো বিতর্কিত বা অবৈধ দলিলের কাজ হাসিল করতেই খোদ সাব-রেজিস্ট্রারকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল কি না—তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি উঠেছে। সরকারি কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক আচরণ এবং প্রকাশ্য দিবালোকে এই অপহরণচেষ্টার পেছনে কারা জড়িত, তা দ্রুত চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয়

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বুকে মেলা: চেম্বারের সাইনবোর্ডে বহিরাগত চক্রের হরিলুট

error: Content is protected !!

দিনদুপুরে সাব-রেজিস্ট্রারকে ‘তুলে নিয়ে গেল’ যুবকেরা: ৪০ মিনিট পর ফিরলেন আতঙ্কিত হয়ে

প্রকাশের সময়: ০৩:০২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

খুলনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে থেকে দিনদুপুরে সদর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে জোরপূর্বক রিকশা থেকে নামিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৪০ মিনিট পর তিনি ফিরে এলেও ঘটনাটিকে ঘিরে নগরজুড়ে চরম আতঙ্ক ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দপ্তরের সামনে থেকে খোদ একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে এভাবে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে খাবারের বিরতিতে কার্যালয় থেকে বের হয়ে একটি রিকশায় ওঠেন তন্ময় কুমার মণ্ডল। মুহূর্তের মধ্যেই ৩-৪টি মোটরসাইকেলে করে এসে একদল যুবক রিকশাটির গতিরোধ করে। তাদের দুজন জোর করে সাব-রেজিস্ট্রারের রিকশায় চেপে বসে এবং কিছু দূর নিয়ে গিয়ে তাঁকে একটি মোটরসাইকেলে তোলে। এরপর দ্রুতগতিতে নগরীর কালীবাড়ি ঘাট এলাকার দিকে চলে যায় তারা।

​খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও সম্ভাব্য রুটগুলোতে তৎপরতা শুরু করে। ঘটনার প্রায় ৪০ মিনিট পর একটি রিকশায় করে কার্যালয়ে ফিরে আসেন তন্ময় কুমার মণ্ডল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ফিরে আসার সময় ওই কর্মকর্তা ছিলেন মারাত্মক আতঙ্কিত, বিধ্বস্ত ও ঘর্মাক্ত।

​তবে পুরো ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা নিজেই। কারা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল—সে বিষয়ে মুখ খুলতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, “কয়েকজন যুবক কালীবাড়ি ঘাটের একটি দোকানে নিয়ে কিছু নথিপত্র ঠিক আছে কি না দেখতে চেয়েছিল; দেখা শেষে তারাই আবার রিকশায় পাঠিয়ে দিয়েছে।” একজন সরকারি কর্মকর্তাকে নিজ কার্যালয়ের সামনে থেকে জিম্মি করে ব্যক্তিগত দোকানে নিয়ে ‘নথিপত্র যাচাই’ করানোর এই নজিরবিহীন দাবি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র গুঞ্জন চলছে।

​খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক মাঠে নামে। পরে সাব-রেজিস্ট্রার নিরাপদে ফিরে আসেন।

​এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর কালীবাড়ি ঘাট এলাকায় ‘বি কোম্পানি’ নামের একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া দৌরাত্ম্য রয়েছে। চক্রটি কোনো বিতর্কিত বা অবৈধ দলিলের কাজ হাসিল করতেই খোদ সাব-রেজিস্ট্রারকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল কি না—তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি উঠেছে। সরকারি কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক আচরণ এবং প্রকাশ্য দিবালোকে এই অপহরণচেষ্টার পেছনে কারা জড়িত, তা দ্রুত চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।