
সংসারের টানাপোড়েন ঘোচাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন শত মাইল দূরের জাহাজ ভাঙা শিল্পে। লোহার দানব কেটে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসেই চিরতরে থেমে গেল তাঁদের জীবনসংগ্রাম। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিষাক্ত গ্যাস ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো ৯ শ্রমিকের মধ্যে গাইবান্ধার দুই তরুণ—রানা ও খোকনের মরদেহ শনিবার সকালে গ্রামে পৌঁছাতেই নেমে আসে শোকের স্তব্ধতা। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিহতদের একজন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মো. হারুন অর রশিদের ছেলে মো. রানা মিয়া (২৪)। অপরজন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের হলুদিয়া গ্রামের মো. খোকন মিয়া (পিতা: মো. রানা মিয়া)। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ দুটি নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছায়। কফিন ছুঁয়ে পরিবারের সদস্যদের আহাজারি দেখে প্রতিবেশীরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। মুহূর্তেই এক নজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন নিহতদের বাড়িতে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী স্টেশন রোড এলাকার ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে’ একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাঙ্ক কাটার সময় ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে মোট ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















