মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চোরের হাতে চুরির তদন্ত! গাইবান্ধায় পিআইও’র অনিয়ম ঢাকতে প্রশাসনের ‘আত্মঘাতী’ তদন্ত কমিটি

গাইবান্ধা জেলায় বিগত অর্থবছরগুলোতে বাস্তবায়িত গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিটা, কাবিখা ও টিআর) কর্মসূচির আওতাভুক্ত প্রকল্পসমূহে বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্যশস্যের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই অনিয়মের তদন্তে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-কেই ‘সদস্য সচিব’ মনোনীত করায় প্রশাসনিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

​অভিযুক্ত দপ্তরের মূল কর্মকর্তাকে তদন্তের প্রধান প্রক্রিয়ায় যুক্ত করায় গোটা তদন্ত কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। ঘটনাটিকে প্রশাসনের ভেতরে ‘দুধের পাহারা বিড়ালের হাতে দেওয়ার শামিল’ বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) স্বাক্ষরিত ওই আদেশে ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত প্রকল্পসমূহে অনিয়মের বিষয়ে সরেজমিন তদন্তের জন্য ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

​উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ডিপিএইচই-এর সহকারী/উপসহকারী প্রকৌশলীকে সদস্য রাখা হয়েছে। তবে বিস্ময়করভাবে ৫ নম্বর ক্রমিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) করা হয়েছে তদন্ত কমিটির ‘সদস্য সচিব’।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের যাবতীয় বরাদ্দ, মাস্টাররোল প্রস্তুত এবং অর্থছাড়ের মূল দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। অথচ বিগত বছরগুলোর সেই সব বিতর্কিত প্রকল্পের তদন্তে সংশ্লিষ্ট পিআইও-কেই তথ্য সংগ্রহ, নথি উপস্থাপন ও তদন্ত প্রতিবেদন লেখার দায়িত্ব (সদস্য সচিব) দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে তদন্ত পরিচালিত হলে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত অনিয়ম, প্রকল্পের নামে ভূতুড়ে কাজ এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য পুরোপুরি ধামাচাপা পড়ে যাবে। এতে নিরপেক্ষ তদন্তের মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে বসেছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, যে কর্মকর্তা নিজেই প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তিনি কীভাবে নিজের এবং নিজের দপ্তরের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করবেন? এটি আইনের সাধারণ নীতি ও নিরপেক্ষ তদন্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

​সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত দপ্তরের কর্মকর্তাদের বাইরে রেখে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি পুনর্গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয়

সরকারি গুদাম ‘হাউসফুল’, খোলা বাজারে রক্তক্ষরণ: গাইবান্ধায় বোরো চাষিদের আর্তনাদ

error: Content is protected !!

চোরের হাতে চুরির তদন্ত! গাইবান্ধায় পিআইও’র অনিয়ম ঢাকতে প্রশাসনের ‘আত্মঘাতী’ তদন্ত কমিটি

প্রকাশের সময়: ০১:৫১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধা জেলায় বিগত অর্থবছরগুলোতে বাস্তবায়িত গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিটা, কাবিখা ও টিআর) কর্মসূচির আওতাভুক্ত প্রকল্পসমূহে বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্যশস্যের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই অনিয়মের তদন্তে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-কেই ‘সদস্য সচিব’ মনোনীত করায় প্রশাসনিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

​অভিযুক্ত দপ্তরের মূল কর্মকর্তাকে তদন্তের প্রধান প্রক্রিয়ায় যুক্ত করায় গোটা তদন্ত কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। ঘটনাটিকে প্রশাসনের ভেতরে ‘দুধের পাহারা বিড়ালের হাতে দেওয়ার শামিল’ বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) স্বাক্ষরিত ওই আদেশে ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত প্রকল্পসমূহে অনিয়মের বিষয়ে সরেজমিন তদন্তের জন্য ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

​উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ডিপিএইচই-এর সহকারী/উপসহকারী প্রকৌশলীকে সদস্য রাখা হয়েছে। তবে বিস্ময়করভাবে ৫ নম্বর ক্রমিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) করা হয়েছে তদন্ত কমিটির ‘সদস্য সচিব’।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের যাবতীয় বরাদ্দ, মাস্টাররোল প্রস্তুত এবং অর্থছাড়ের মূল দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। অথচ বিগত বছরগুলোর সেই সব বিতর্কিত প্রকল্পের তদন্তে সংশ্লিষ্ট পিআইও-কেই তথ্য সংগ্রহ, নথি উপস্থাপন ও তদন্ত প্রতিবেদন লেখার দায়িত্ব (সদস্য সচিব) দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে তদন্ত পরিচালিত হলে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত অনিয়ম, প্রকল্পের নামে ভূতুড়ে কাজ এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য পুরোপুরি ধামাচাপা পড়ে যাবে। এতে নিরপেক্ষ তদন্তের মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে বসেছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, যে কর্মকর্তা নিজেই প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তিনি কীভাবে নিজের এবং নিজের দপ্তরের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করবেন? এটি আইনের সাধারণ নীতি ও নিরপেক্ষ তদন্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

​সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত দপ্তরের কর্মকর্তাদের বাইরে রেখে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি পুনর্গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।