মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতের রুল এড়াতে গাইবান্ধা প্রশাসনের নাটক : ১১৯ টি অবৈধ ইটভাটার মাঝে ভাঙল মাত্র ৬ টি!

উচ্চ আদালতের অবমাননার রুল জারির পর নড়েচড়ে বসলেও গাইবান্ধায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে লোকদেখানো ও দায়সারা অভিযানে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিজস্ব তালিকা অনুযায়ী জেলায় ১১৯টি ইটভাটা সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও গত কয়েক দিনে নামমাত্র দুই-চারটি ভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েই অভিযান স্থবির করার অভিযোগ উঠেছে। মহাসড়ক সংলগ্ন শতাধিক অবৈধ ভাটা বহাল তবিয়তে চালু থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​গত ১০ আগস্ট গাইবান্ধায় অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ না করায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারির খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপরই তড়িঘড়ি করে জেলার কয়েকটি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গুটি কয়েক ভাটার আংশিক অংশ ভেঙে ফেলা হয়। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ ভাটা এখনও বীরদর্পে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

​সচেতন মহলের অভিযোগ, ১১৯টি অবৈধ ভাটার মধ্যে মাত্র দুই-চারটি ভেঙে প্রশাসন মূলত আদালত ও সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রভাবশালীদের মালিকানাধীন বড় বড় অবৈধ ইট ভাটাগুলোকে স্পর্শ না করে প্রান্তিক পর্যায়ের কিছু ভাটার ওপর অভিযান চালানো স্পষ্টতই ‘আইওয়াশ’।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যেহেতু ভাঙ্গার বিষয়টি সময় স্বাপেক্ষ এবং একদিনে দুটোর বেশি ভাঙ্গা সম্ভব নয় তাই একটু সময় লাগছে তবে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

​পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কৃষি জমি ধ্বংস ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে কোনোপ্রকার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পক্ষপাত ছাড়া স্থায়ী ও সর্বাত্মক উচ্ছেদ অভিযান চালানো দরকার। লোকদেখানো নামমাত্র অভিযান বন্ধ করে দ্রুত ১১৯ টি অবৈধ ভাটাই পুরোপুরি গুড়িয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ।

জনপ্রিয়

মাদক-ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে সাফল্য: গাইবান্ধা ডিবি ওসি আব্দুল মোত্তালিবকে সম্মাননা

error: Content is protected !!

আদালতের রুল এড়াতে গাইবান্ধা প্রশাসনের নাটক : ১১৯ টি অবৈধ ইটভাটার মাঝে ভাঙল মাত্র ৬ টি!

প্রকাশের সময়: ০৭:০০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

উচ্চ আদালতের অবমাননার রুল জারির পর নড়েচড়ে বসলেও গাইবান্ধায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে লোকদেখানো ও দায়সারা অভিযানে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিজস্ব তালিকা অনুযায়ী জেলায় ১১৯টি ইটভাটা সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও গত কয়েক দিনে নামমাত্র দুই-চারটি ভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েই অভিযান স্থবির করার অভিযোগ উঠেছে। মহাসড়ক সংলগ্ন শতাধিক অবৈধ ভাটা বহাল তবিয়তে চালু থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​গত ১০ আগস্ট গাইবান্ধায় অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ না করায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারির খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপরই তড়িঘড়ি করে জেলার কয়েকটি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গুটি কয়েক ভাটার আংশিক অংশ ভেঙে ফেলা হয়। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ ভাটা এখনও বীরদর্পে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

​সচেতন মহলের অভিযোগ, ১১৯টি অবৈধ ভাটার মধ্যে মাত্র দুই-চারটি ভেঙে প্রশাসন মূলত আদালত ও সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রভাবশালীদের মালিকানাধীন বড় বড় অবৈধ ইট ভাটাগুলোকে স্পর্শ না করে প্রান্তিক পর্যায়ের কিছু ভাটার ওপর অভিযান চালানো স্পষ্টতই ‘আইওয়াশ’।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যেহেতু ভাঙ্গার বিষয়টি সময় স্বাপেক্ষ এবং একদিনে দুটোর বেশি ভাঙ্গা সম্ভব নয় তাই একটু সময় লাগছে তবে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

​পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কৃষি জমি ধ্বংস ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে কোনোপ্রকার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পক্ষপাত ছাড়া স্থায়ী ও সর্বাত্মক উচ্ছেদ অভিযান চালানো দরকার। লোকদেখানো নামমাত্র অভিযান বন্ধ করে দ্রুত ১১৯ টি অবৈধ ভাটাই পুরোপুরি গুড়িয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ।