
শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ফাঁসের পর এবার মরিয়া হয়ে ধামাচাপার খেলায় নেমেছেন গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আরজুমান আরা বেগম। নিজের অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রবেশের বিষয়টি ধরা পড়ার পর ‘ভুল হয়েছিল, সমাধান করেছি’ বলে সাফাই গাইলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। ঘটনা আড়াল করতে এবার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্যপ্রমাণ ও নিউজ ডিলিট করানোর নেপথ্য অপতৎপরতায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ না পেয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শুরু থেকেই নানা কৌশল অবলম্বন করছেন প্রধান শিক্ষিকা আরজুমান আরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হলে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে একের পর এক নিউজ ও ভিডিও রহস্যজনকভাবে গায়েব হতে শুরু করেছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, নিজের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকতে প্রভাব খাটিয়ে ও অর্থের জোরে বিভিন্ন সংবাদ সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এতে স্পষ্ট হচ্ছে—অপরাধ ধামাচাপা দিতে এবং জনদৃষ্টি ভিন্নখাতে নিতে প্রধান শিক্ষিকা এখন মরিয়া হয়ে ‘ম্যানেজ রাজনীতি’ ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ক্লিন’ করার এই ব্যস্ততা প্রমাণ করে ঘটনার পেছনে বড় ধরনের অনিয়মের গভীর চক্রান্ত রয়েছে। ‘সমাধানের’ নাটক সাজিয়ে একজন প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান কীভাবে শিক্ষার্থীদের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের দুঃসাহস দেখালেন, সে বিষয়ে প্রশাসন কেন এখনও তাকে দায়িত্বে বহাল রেখেছে?
একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হক নষ্ট করে যে প্রধান শিক্ষিকা নিজের অ্যাকাউন্ট ভারী করেন এবং পরবর্তীতে নানা কূটকৌশলে সংবাদ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান, তার কোনো নৈতিক অধিকার নেই ওই চেয়ারে বসে থাকার।
সচেতন মহলের জোর দাবি, সংবাদ ডিলিট করিয়ে সাময়িক আড়াল তৈরি করা গেলেও জনরোষ এড়ানো সম্ভব নয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কাছে তারা দ্রুত প্রধান শিক্ষিকা আরজুমান আরা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার ব্যাংক হিসাব তলব এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















