
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় সাদিয়া আক্তার (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যার পর পৌর এলাকার রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাদিয়া স্থানীয় আহম্মদ উদ্দিন শাহ্ শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে এলাকায় তীব্র গুঞ্জন ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোন ব্যবহার সংক্রান্ত কলহ নাকি প্রাইভেট শিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিতর্ক—কোন কারণে এই আত্মহনন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়া শেষে বিষণ্ণ মুখে বাড়ি ফেরে সাদিয়া। এরপর মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বাইরে বের হতে চাইলে তার মা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মায়ের ওপর চড়াও হয় সাদিয়া। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, টিনের ঘরের ফাঁক দিয়ে মা ও মেয়েকে চুল ধরে মারামারি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে রাগের মাথায় ড্রেসিং টেবিলে সজোরে ঘুষি মারলে সাদিয়ার হাত কেটে রক্তপাত হয়।
এদিকে স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, মোবাইল বিরোধ কেবল উপলক্ষ মাত্র; মূলত এক প্রাইভেট শিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনা জানাজানি হওয়া এবং তা নিয়ে মায়ের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদের জেরেই চরম পথ বেছে নেয় সাদিয়া।
মায়ের সঙ্গে সংঘাতের পর ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা সাদিয়া পাশের ফাঁকা দাদির ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। দাদি চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা শহরে থাকায় ঘরটি খালি ছিল। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে সন্দেহ হলে প্রতিবেশীরা চালের ওপর দিয়ে উঁকি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে সাদিয়ার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। পরে দরজা ভেঙে দ্রুত গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাদিয়ার মধ্যে চরম মাত্রার মানসিক অস্থিরতা ও রাগ ছিল। এর আগেও সে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। সে সময় গুরুতর অবস্থায় গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে দীর্ঘ চিকিৎসার পর তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু পূর্বের সেই মানসিক প্রবণতাকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং পারিবারিক চরম টানাপোড়েনের বলি হয়ে এবার আর শেষ রক্ষা হলো না।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















