
গাইবান্ধা পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকে প্রকাশ্যে লাইসেন্স সহকারীকে মারধর এবং কার্যালয়ের লাইসেন্স শাখায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা জেলা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত লাইসেন্স সহকারী আনারুল ইসলামকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পৌর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে জেলা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এবং বাসদ নেতা গোলাম রব্বানী,র নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল পৌর চত্বরে প্রবেশ করে। মিছিলকারীরা একপর্যায়ে হঠাৎ করেই পৌর কার্যালয়ের নিচতলার লাইসেন্স শাখায় ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। তারা দাপ্তরিক কাগজপত্র তছনছসহ টেবিল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

এ সময় লাইসেন্স সহকারী আনারুল ইসলাম বাধা দিলে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। পরে স্থানীয় ও সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ও স্টিকার লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল, যা সরাসরি সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অপকৌশল। পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ গাড়িকে শৃঙ্খলায় আনতে এবং সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত করতে সম্প্রতি অভিযান পরিচালনা করে কিছু অবৈধ গাড়ি আটক করে পৌর চত্বরে আনা হয়। মূলত সেই ক্ষোভ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।

পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে দিনেদুপুরে এমন ন্যক্কারজনক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং অফিসে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, সরকারি দপ্তরে ঢুকে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














