
শহরের কেন্দ্রস্থলে গণপূর্ত বিভাগের সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠটি এখন বাণিজ্য মেলার পসরা সাজানোর প্রস্তুতিতে মুখর। অথচ প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি এই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি কে বা কারা দিলো? বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে আয়োজনের কথা বলা হলেও নেপথ্যে কারা লাভবান হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। আসন্ন ১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া মাসব্যাপী এই মেলা ঘিরে গাইবান্ধার জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহ।
গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন ভি-এইড রোডসংলগ্ন সরকারি জমি এভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আইনি ভিত্তি নিয়ে উঠেছে জোরালো প্রশ্ন। সরকারি এই সম্পত্তি ব্যবহারে আদৌ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রশাসনের লিখিত কোনো বৈধ অনুমতিপত্র রয়েছে কি না, নাকি মৌখিক তদবিরেই সরকারি জায়গা তুলে দেওয়া হয়েছে মেলা আয়োজকদের হাতে—তা এখনও পরিষ্কার নয়। সরকারি জায়গা ব্যবহারের নির্ধারিত ফি বা রাজস্ব কোষাগারে জমা পড়েছে কি না, নাকি পুরোটাই চলছে অনিয়মের চাদরে ঢেকে, সেই উত্তর খুঁজছেন স্থানীয়রা।
মেলায় প্রায় ৭০টি স্টল বসানোর প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে নেপথ্যের আর্থিক লেনদেন নিয়ে শুরু হয়েছে কানাঘুষা।
প্রতিটি স্টল থেকে আয়োজকরা ঠিক কত টাকা করে আদায় করছেন, তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। অভিযোগ রয়েছে, চড়া মূল্যে স্টল বরাদ্দ দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মেলার উদ্দেশ্য স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ দাবি করা হলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চেয়ে বাইরের জেলা থেকে আসা বাণিজ্যিক ব্যবসায়ীদের কাছেই সিংহভাগ স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেলায় গাইবান্ধার নিজস্ব উদ্যোক্তা কতজন আর বাইরের ব্যবসায়ী কতজন—তার কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি আয়োজক কর্তৃপক্ষ। ফলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে একটি নির্দিষ্ট চক্র ফায়দা লুটছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নাম ব্যবহার করে মেলার প্রচার চালানো হলেও ভেতরে-ভেতরে সম্পূর্ণ মেলাটি কোনো তৃতীয় পক্ষের ঠিকাদার বা ইজারাদারের কাছে চড়া দামে ‘সাব-কন্ট্রাক্ট’ বা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ। নামমাত্র চেম্বারকে সামনে রেখে নেপথ্যের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পুরো আয়োজনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্টল বরাদ্দের মোটা অঙ্কের বাণিজ্য চালাচ্ছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে।
মেলার একদম গা ঘেঁষে রয়েছে গাইবান্ধা সদর উপজেলা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। মেলা চলাকালীন উচ্চশব্দে মাইক বাজানো, চরম যানজট এবং বহিরাগতদের আনাগোনায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যেই মেলা বন্ধের দাবিতে অভিভাবক ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জনস্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, মেলা শুরুর আগেই জেলা প্রশাসনকে মাঠে নেমে তদন্ত করতে হবে—সরকারি মাঠ বরাদ্দের বৈধ নথি কার কাছে আছে, প্রতিটি স্টলের বিপরীতে কত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং মেলা ব্যবস্থাপনায় কোনো অবৈধ সাব-কন্ট্রাক্ট হয়েছে কি না। স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি ও জনস্বার্থবিরোধী এ আয়োজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধাবাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















