রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে টেন্ডার জালিয়াতির মহোৎসব: নেপথ্যে তত্ত্বাবধায়ক লিংকন ও হিসাবরক্ষক হিরু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০২:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা জেনারেল সদর হাসপাতালকে অনিয়ম, লুটপাট ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহীদুল্লাহ লিংকন এবং প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক নুর এ ইসলাম হিরুর বিরুদ্ধে। চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটার নামে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার টেন্ডার জালিয়াতি ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি বিপুল অর্থ লোপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, হিসাবরক্ষক নুর এ ইসলাম হিরু বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের যোগসাজশে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালের লিনেন সামগ্রী সরবরাহ, কন্টিনজেন্সি তহবিল ও অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) যন্ত্রপাতি মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।​

 নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট। প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় না করেই কাল্পনিক বিল তৈরি করে হাসপাতালের বরাদ্দকৃত বাজেট নিয়মিত হাতিয়ে নেওয়া। দুর্নীতির অর্থে শহরের মহুরীপাড়ায় আলিশান বহুতল ভবন নির্মাণ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ হিরুর বিরুদ্ধে।

বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপকর্ম চালালেও বর্তমান পটপরিবর্তনের পর নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভোল পাল্টে সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

​সরকারি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার টাকা লুটপাটের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সচেতন মহল। স্বাস্থ্য খাতের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে টেন্ডার জালিয়াতির মহোৎসব: নেপথ্যে তত্ত্বাবধায়ক লিংকন ও হিসাবরক্ষক হিরু

error: Content is protected !!

গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে টেন্ডার জালিয়াতির মহোৎসব: নেপথ্যে তত্ত্বাবধায়ক লিংকন ও হিসাবরক্ষক হিরু

প্রকাশের সময়: ০২:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা জেনারেল সদর হাসপাতালকে অনিয়ম, লুটপাট ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহীদুল্লাহ লিংকন এবং প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক নুর এ ইসলাম হিরুর বিরুদ্ধে। চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটার নামে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার টেন্ডার জালিয়াতি ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি বিপুল অর্থ লোপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, হিসাবরক্ষক নুর এ ইসলাম হিরু বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের যোগসাজশে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালের লিনেন সামগ্রী সরবরাহ, কন্টিনজেন্সি তহবিল ও অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) যন্ত্রপাতি মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।​

 নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট। প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় না করেই কাল্পনিক বিল তৈরি করে হাসপাতালের বরাদ্দকৃত বাজেট নিয়মিত হাতিয়ে নেওয়া। দুর্নীতির অর্থে শহরের মহুরীপাড়ায় আলিশান বহুতল ভবন নির্মাণ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ হিরুর বিরুদ্ধে।

বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপকর্ম চালালেও বর্তমান পটপরিবর্তনের পর নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভোল পাল্টে সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

​সরকারি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার টাকা লুটপাটের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সচেতন মহল। স্বাস্থ্য খাতের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।