রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেটে সাত মাসের সন্তান নিয়ে যৌতুকের বলি হলেন শাহাজাদী: স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৫:২৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে শাহাজাদী বেগম (২০) নামে সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকায় এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।

​নিহত শাহাজাদী বেগম উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা (জাদুর বাজার) এলাকার শাহিন মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে তালুককানুপুর ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকার মেহেরাজ মিয়ার (২৫) সঙ্গে শাহাজাদীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর দফায় দফায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। অনাগত সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে এবং সংসার টিকিয়ে রাখতে শাহাজাদী মুখ বুজে সব অত্যাচার সহ্য করতেন। বর্তমানে তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

​নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শাহাজাদী কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবাকে ফোন করে জানান, তিনি বাবার বাড়ি চলে আসার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বের হতে বাধা দিচ্ছে। এ কথা বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ঠিক দুই ঘণ্টার মাথায় বিকেল পৌনে ৫টায় স্বামী মেহেরাজ ফোন করে জানায়, শাহাজাদী ‘অসুস্থ’ এবং কথা বলছে না, তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে।

​খবর পেয়ে নিহতের বাবা ও স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগের মেঝেতে শাহাজাদীর চাদরে মোড়ানো নিথর দেহ দেখতে পান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে পরিবারের অজান্তেই তড়িঘড়ি করে মরদেহ সেখান থেকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

​নিহতের পিতা শাহিন মিয়া ক্ষোভ ও আহাজারি প্রকাশ করে বলেন, “আমার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে ঠান্ডা মাথায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমি আমার মেয়ে ও অনাগত সন্তানের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি চাই।”

​এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে; বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

পেটে সাত মাসের সন্তান নিয়ে যৌতুকের বলি হলেন শাহাজাদী: স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

error: Content is protected !!

পেটে সাত মাসের সন্তান নিয়ে যৌতুকের বলি হলেন শাহাজাদী: স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৫:২৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে শাহাজাদী বেগম (২০) নামে সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকায় এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।

​নিহত শাহাজাদী বেগম উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা (জাদুর বাজার) এলাকার শাহিন মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে তালুককানুপুর ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকার মেহেরাজ মিয়ার (২৫) সঙ্গে শাহাজাদীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর দফায় দফায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। অনাগত সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে এবং সংসার টিকিয়ে রাখতে শাহাজাদী মুখ বুজে সব অত্যাচার সহ্য করতেন। বর্তমানে তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

​নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শাহাজাদী কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবাকে ফোন করে জানান, তিনি বাবার বাড়ি চলে আসার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বের হতে বাধা দিচ্ছে। এ কথা বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ঠিক দুই ঘণ্টার মাথায় বিকেল পৌনে ৫টায় স্বামী মেহেরাজ ফোন করে জানায়, শাহাজাদী ‘অসুস্থ’ এবং কথা বলছে না, তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে।

​খবর পেয়ে নিহতের বাবা ও স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগের মেঝেতে শাহাজাদীর চাদরে মোড়ানো নিথর দেহ দেখতে পান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে পরিবারের অজান্তেই তড়িঘড়ি করে মরদেহ সেখান থেকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

​নিহতের পিতা শাহিন মিয়া ক্ষোভ ও আহাজারি প্রকাশ করে বলেন, “আমার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে ঠান্ডা মাথায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমি আমার মেয়ে ও অনাগত সন্তানের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি চাই।”

​এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে; বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।