
কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকের ঘাম ঝরানো পয়সা লুটে নেওয়ার কারবার ফাঁস করতেই খড়্গ নেমে এলো গণমাধ্যমের ওপর। গাইবান্ধার কামারজানিতে অবৈধ সার মজুদের অন্ধকার সাম্রাজ্যের অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে কালোবাজারি চক্রের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি বিপ্লব ইসলামও ভিডিও জার্নালিস্ট সোহেল রানা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামারজানি ইউনিয়নজুড়ে একটি চিহ্নিত অসাধু চক্র বিপুল পরিমাণ সার গোপনে গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে কৃষকদের জিম্মি করে আসছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকি ও অভিযানের চিত্র ক্যামেরাবন্দী করতে সেখানে যান সময় টিভির এই দুই সংবাদকর্মী। কিন্তু তথ্য-প্রমাণ ও ফুটেজ সংগ্রহ করে ফেরার পথেই প্রকাশ্য দিবালোকে তাদের পথরোধ করে মজুদদারদের সন্ত্রাসী বাহিনী।
সত্যের কণ্ঠরোধ করতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। এ সময় তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনের মূল হাতিয়ার—ভিডিও ক্যামেরা ও সম্প্রচার সরঞ্জাম ভাঙচুর করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। একই সঙ্গে দুই সাংবাদিককে নির্মমভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। প্রকাশ্য দিবালোকে সংবাদ সংগ্রহের অপরাধে এই নারকীয় ও কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে গাইবান্ধার পুরো সাংবাদিক সমাজ।
সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—সিন্ডিকেটের ভয় দেখিয়ে গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ রাখা যাবে না। ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতা ও তাদের মদদদাতা ক্যাডারদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








