সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুলিশকে হামলা! গোবিন্দগঞ্জে দুর্ধর্ষ ক্যাসিনো ডিলার রাজ্জাক গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো সিন্ডিকেটের মূল হোতা, কুখ্যাত ডিলার আব্দুর রাজ্জাককে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের খারিতা গ্রামে এক শ্বাসরুদ্ধকর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​তবে তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তার স্বজন ও অপরাধী চক্রের সদস্যরা। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শাখাহার ইউনিয়নসহ পুরো গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছিল আব্দুর রাজ্জাকের এই অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম খারিতা গ্রামে রাজ্জাকের বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায়।

​অভিযান চলাকালীন পুলিশ সদস্যরা রাজ্জাককে আটক করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজ্জাককে বাঁচাতে তার স্বজন ও স্থানীয় জুয়াড়ি চক্রের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধস্তাধস্তি ও মারমুখী আচরণ করে রাজ্জাককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বৈরাগীরহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জহুরুল ইসলাম এবং গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মীর শিবলী কায়েসের নেতৃত্বে পুলিশের বিশাল একটি ব্যাকআপ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অতিরিক্ত পুলিশের অ্যাকশনে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং পুলিশ সফলভাবে ডিলার রাজ্জাককে থানায় নিয়ে আসে।

​আটককৃত আব্দুর রাজ্জাক খারিতা গ্রামের নূরুন্নবীর ছেলে। গ্রেপ্তারের পর তল্লাশি চালিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অনলাইন জুয়ার আলামত ও ক্যাসিনো পরিচালনার অ্যাপস পাওয়া গেছে।

“অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে রাজ্জাক কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। তার মোবাইলে জুয়ার সুনির্দিষ্ট আলামত মিলেছে। এ ঘটনায় জুয়া আইন এবং সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জনপ্রিয়

রাজনীতির আড়ালে বিষাক্ত ইয়াবা কারবার! সুন্দরগঞ্জে ৮ পিস ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা হাতেনাতে গ্রেফতার

error: Content is protected !!

গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুলিশকে হামলা! গোবিন্দগঞ্জে দুর্ধর্ষ ক্যাসিনো ডিলার রাজ্জাক গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময়: ০২:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো সিন্ডিকেটের মূল হোতা, কুখ্যাত ডিলার আব্দুর রাজ্জাককে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের খারিতা গ্রামে এক শ্বাসরুদ্ধকর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​তবে তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তার স্বজন ও অপরাধী চক্রের সদস্যরা। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শাখাহার ইউনিয়নসহ পুরো গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছিল আব্দুর রাজ্জাকের এই অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম খারিতা গ্রামে রাজ্জাকের বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায়।

​অভিযান চলাকালীন পুলিশ সদস্যরা রাজ্জাককে আটক করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজ্জাককে বাঁচাতে তার স্বজন ও স্থানীয় জুয়াড়ি চক্রের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধস্তাধস্তি ও মারমুখী আচরণ করে রাজ্জাককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বৈরাগীরহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জহুরুল ইসলাম এবং গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মীর শিবলী কায়েসের নেতৃত্বে পুলিশের বিশাল একটি ব্যাকআপ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অতিরিক্ত পুলিশের অ্যাকশনে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং পুলিশ সফলভাবে ডিলার রাজ্জাককে থানায় নিয়ে আসে।

​আটককৃত আব্দুর রাজ্জাক খারিতা গ্রামের নূরুন্নবীর ছেলে। গ্রেপ্তারের পর তল্লাশি চালিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অনলাইন জুয়ার আলামত ও ক্যাসিনো পরিচালনার অ্যাপস পাওয়া গেছে।

“অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে রাজ্জাক কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। তার মোবাইলে জুয়ার সুনির্দিষ্ট আলামত মিলেছে। এ ঘটনায় জুয়া আইন এবং সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”