
সমাজ ও রাজনীতিকে কলঙ্কিত করে এবার মাদকের জালে জড়ালেন উদীয়মান এক রাজনৈতিক নেতা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পকেটে ইয়াবা নিয়ে মাদক কেনাবেচাকালে পুলিশি জালে ধরা পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল মিয়া ওরফে শাকিল খান।
রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজার এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধর্মপুর বাজারের ‘জোবেদা ফিলিং স্টেশন’-এর ক্যাশ কাউন্টারের পাশের একটি অন্ধকার ও ফাঁকা জায়গায় মাদকের কেনাবেচা চলছে—এমন খবরে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর শাকিল চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সীচা (হাজীপাড়া) গ্রামের নূর মোহাম্মদ আলীর এই কুলাঙ্গার সন্তানকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তার পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে মোড়ানো পলিথিন উদ্ধার করা হলে তা থেকে বের হয়ে আসে ৮ পিস প্রাণঘাতী ইয়াবা ট্যাবলেট।
একজন উদীয়মান রাজনৈতিক নেতার পকেটে বিষাক্ত মাদক উদ্ধারের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুরো উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রাজনীতির আড়ালে এমন অসাধু কর্মকাণ্ড সামাজিক অবক্ষয়ের চরম রূপ।
এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা কড়া ভাষায় জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বহাল রয়েছে। গোপন খবরের ভিত্তিতে অপরাধীকে গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এসআই মো. নওশের আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর আসামিকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে দলের দায়িত্বশীল পদের নেতার এমন অপরাধে মুখ পুড়েছে এনসিপির। দায় এড়াতে উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব আশানুর রহমান জানান, এনসিপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শাকিলের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















