বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​বিকাশ এজেন্টের টাকা-বাইক লুট: উদ্ধার আকুতির মাঝে চাদাবাজি চক্র, সুন্দরগঞ্জ থানার নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৫:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে এক বিকাশ এজেন্টের পথরোধ করে নগদ ৬ লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর মালামাল উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় এক চক্রের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক কুরুচিপূর্ণ খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।

​ভুক্তভোগী বিকাশ এজেন্ট হোসেন আলী উপজেলার বার বলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন (রোববার) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হোসেন আলী নয়ন সুখ এলাকায় অবস্থিত শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলযোগে রওনা হন। পথে শখের বাজার সংলগ্ন বদিয়ার মাঠ এলাকার একটি সেতুর ওপর পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওতপেতে থাকা ৪-৫ জনের একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে।

​পিশাচিক কায়দায় দুজন তাকে চেপে ধরে এবং বাকিরা তার ১২৫ সিসির বাজাজ মোটরসাইকেল, নগদ ৬ লাখ টাকা এবং ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন (যার আনুমানিক মূল্য ৩৬ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ওই পথ দিয়ে অন্য গাড়ি আসতে দেখে ছিনতাইকারীরা তাকে ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। জীবন বাঁচাতে ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে এক ছিনতাইকারীর মুখোশ খুলে গেলে হোসেন আলী অপর একজনকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে লাফিয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করেন। দুর্বৃত্তরা স্থান ত্যাগ করলে তিনি ভিজে একাকার অবস্থায় পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গিয়ে বিষয়টি জানান।

ঘটনার আকস্মিকতা সামলে উঠে শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে শখের বাজারে পৌঁছালে এক নতুন প্রতারণার শিকার হন ভুক্তভোগী। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় মোজাফফর, সাবেক ইউপি সদস্য আলম এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহেরা খাতুন ছিনতাই হওয়া মালামাল ও টাকা উদ্ধারের গ্যারান্টি দিয়ে প্রথমে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে আলম মেম্বার সরাসরি ৫ হাজার টাকা পকেটে পুরেন। তবে টাকা গিলে খেলেও মালামাল উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে থানায় দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী।

​অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য আলম কৌশল বদলে দাবি করেন, “হোসেন আলীর পক্ষ থেকে টাকা দেওয়া হলেও আমরা গ্রহণ করিনি, পরে ফেরত দেওয়া হয়েছে।” তবে ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধে কেন তারা সালিশের নামে টাকা লেনদেনের নাটক সাজালেন—তা নিয়ে এলাকায় তুমুল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ জানান, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরগঞ্জের অলিতে-গলিতে চুরি ও ছিনতাইয়ের মহোৎসব চলায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের জোর দাবি—অবিলম্বে এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি উদ্ধারের নামে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত চক্রটিকেও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

জনপ্রিয়

​বিকাশ এজেন্টের টাকা-বাইক লুট: উদ্ধার আকুতির মাঝে চাদাবাজি চক্র, সুন্দরগঞ্জ থানার নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ

error: Content is protected !!

​বিকাশ এজেন্টের টাকা-বাইক লুট: উদ্ধার আকুতির মাঝে চাদাবাজি চক্র, সুন্দরগঞ্জ থানার নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ

প্রকাশের সময়: ০৫:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে এক বিকাশ এজেন্টের পথরোধ করে নগদ ৬ লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর মালামাল উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় এক চক্রের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক কুরুচিপূর্ণ খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।

​ভুক্তভোগী বিকাশ এজেন্ট হোসেন আলী উপজেলার বার বলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন (রোববার) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হোসেন আলী নয়ন সুখ এলাকায় অবস্থিত শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলযোগে রওনা হন। পথে শখের বাজার সংলগ্ন বদিয়ার মাঠ এলাকার একটি সেতুর ওপর পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওতপেতে থাকা ৪-৫ জনের একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে।

​পিশাচিক কায়দায় দুজন তাকে চেপে ধরে এবং বাকিরা তার ১২৫ সিসির বাজাজ মোটরসাইকেল, নগদ ৬ লাখ টাকা এবং ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন (যার আনুমানিক মূল্য ৩৬ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ওই পথ দিয়ে অন্য গাড়ি আসতে দেখে ছিনতাইকারীরা তাকে ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। জীবন বাঁচাতে ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে এক ছিনতাইকারীর মুখোশ খুলে গেলে হোসেন আলী অপর একজনকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে লাফিয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করেন। দুর্বৃত্তরা স্থান ত্যাগ করলে তিনি ভিজে একাকার অবস্থায় পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গিয়ে বিষয়টি জানান।

ঘটনার আকস্মিকতা সামলে উঠে শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে শখের বাজারে পৌঁছালে এক নতুন প্রতারণার শিকার হন ভুক্তভোগী। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় মোজাফফর, সাবেক ইউপি সদস্য আলম এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহেরা খাতুন ছিনতাই হওয়া মালামাল ও টাকা উদ্ধারের গ্যারান্টি দিয়ে প্রথমে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে আলম মেম্বার সরাসরি ৫ হাজার টাকা পকেটে পুরেন। তবে টাকা গিলে খেলেও মালামাল উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে থানায় দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী।

​অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য আলম কৌশল বদলে দাবি করেন, “হোসেন আলীর পক্ষ থেকে টাকা দেওয়া হলেও আমরা গ্রহণ করিনি, পরে ফেরত দেওয়া হয়েছে।” তবে ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধে কেন তারা সালিশের নামে টাকা লেনদেনের নাটক সাজালেন—তা নিয়ে এলাকায় তুমুল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ জানান, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরগঞ্জের অলিতে-গলিতে চুরি ও ছিনতাইয়ের মহোৎসব চলায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের জোর দাবি—অবিলম্বে এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি উদ্ধারের নামে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত চক্রটিকেও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।