
আইন অনুযায়ী শিশু শ্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ হলেও সরকারি নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে সারাদেশের মতো গাইবান্ধা জেলাতেও অবাধে চলছে শিশুশ্রম। কেবল শারীরিক পরিশ্রমেই ক্ষান্ত নয়, এসব ভাগ্যবিড়ম্বিত কোমলমতি শিশুদের ওপর প্রতিনিয়ত চালানো হচ্ছে পাশবিক নির্যাতন। এরই ধারাবাহিকতায় শহরের ব্যস্ততম এলাকায় ঘটেছে এক নির্মম ও বর্বর নির্যাতনের ঘটনা।

আজ রাত ৮টার কিছু পর গাইবান্ধা সার্কুলার রোডস্থ ‘ঢাকা বিরানী হাউজ’-এ মাত্র ৪০০ টাকা চুরির অপবাদে আলিফ আহসান (৮) নামের এক শিশু শ্রমিককে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। শিশুটির বাড়ি পলাশবাড়ি উপজেলায় বলে জানাগেছে।
শিশুটির ওপর অমানুষিক শারীরিক অত্যাচার চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সামান্য টাকার হিসাব মেলানোকে কেন্দ্র করে রেস্তোরাঁ মালিক মামুন ৮ বছরের শিশু আলিফের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে। শিশুটির আর্তচিৎকারে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠলেও রেস্তোরাঁর কর্মচারীরা তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। পরবর্তীতে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে জামাল নামের এক মানবিক পথচারী দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই বিরানি হাউজের মালিক মামুনের বাড়ি বরিশাল জেলায় বলে জানাগেছে। এ ছাড়াও এই মামুনের বিরুদ্ধে শহরের বিভিন্ন মাংস বাজার থেকে নিম্ন মানের উচ্ছিস্ট মাংস দিয়ে তেহেরি বিক্রির ও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে শিশু নির্যাতনের এই বর্বরোচিত ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে অপরাধ ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে ‘ঢাকা বিরানী হাউজ’-এর মালিকপক্ষ। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি গোপন করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারা।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শিশু শ্রম বন্ধের পাশাপাশি এই অবুঝ শিশুর ওপর নির্যাতনকারী ঢাকা বিরানী হাউজের সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন বর্বরতা চালানোর দুঃসাহস না পায়। ঘটনার পর থেকে মালিক মামুন পলাতক রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















