রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় বেপরোয়া অটোরিকশা, স্থবির পুরো শহর, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন

​ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত দাপটে গাইবান্ধা জেলা শহর এখন কার্যত অচল। প্রতিনিয়ত অনিয়ম ও অনিয়ন্ত্রিত যানজটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন শহরবাসী। ফুটপাত থেকে শুরু করে সড়ক—সবই এখন ব্যাটারিচালিত যানের দখলে। ফলে নিত্যদিনের এই যানজট পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।

​ সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্র ডিবি রোড, ১ ও ২ নম্বর রেলগেট এলাকা, সার্কুলার রোড এবং পুরাতন বাজার মোড়ে সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে ট্রেন আসার সময় যখন রেলগেট বন্ধ হয়, তখন যানজটের শিকল ছড়িয়ে পড়ে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ফলে মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষকে একই জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরসভা থেকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক অটোরিকশার অনুমতি থাকলেও প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও ইউনিয়নগুলো থেকে হাজার হাজার অবৈধ অটোরিকশা বেপরোয়াভাবে শহরে ঢুকছে। এগুলোর নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র কিংবা সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক ট্র্যাকিং।

​​নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অনভিজ্ঞ চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এখন নিত্যদিনের চিত্র। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং অনিয়ন্ত্রিত ইউ-টার্নের কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তদুপরি, ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে পথচারীদের বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।

“যে পথ পেরোতে পাঁচ মিনিট লাগার কথা, সেখানে আধা ঘণ্টাতেও পৌঁছানো যাচ্ছে না। শহরে কোনো ট্রাফিক শৃঙ্খলা নেই, যার যেখানে ইচ্ছা সেভাবেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখছে।

​​তীব্র এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল থেকে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে,​ তার মধ্যে শহর এলাকার বাইরে থেকে আসা অবৈধ অটোরিকশা প্রবেশে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ,​জোড়-বিজোড় বা কালার কোডিং ব্যবস্থা, শহরের নিবন্ধনপ্রাপ্ত রিকশাগুলোকে নির্দিষ্ট রঙের ভিত্তিতে দিন অনুযায়ী চালুর নিয়ম করা, ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার শহরের প্রধান মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশের দৃশ্যমান নজরদারি ও স্পট ফাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ​ফুটপাত উদ্ধার, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করা।

​অবিলম্বেই ট্রাফিক বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথ পদক্ষেপ না নিলে গাইবান্ধা শহরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয়

তৃণমূল জয়ের ছক বিএনপির: গাইবান্ধা সদরের ১৩ ইউনিয়নে ধানের শীষের ফরম নিলেন প্রার্থীরা

error: Content is protected !!

গাইবান্ধায় বেপরোয়া অটোরিকশা, স্থবির পুরো শহর, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন

প্রকাশের সময়: ০১:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

​ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত দাপটে গাইবান্ধা জেলা শহর এখন কার্যত অচল। প্রতিনিয়ত অনিয়ম ও অনিয়ন্ত্রিত যানজটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন শহরবাসী। ফুটপাত থেকে শুরু করে সড়ক—সবই এখন ব্যাটারিচালিত যানের দখলে। ফলে নিত্যদিনের এই যানজট পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।

​ সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্র ডিবি রোড, ১ ও ২ নম্বর রেলগেট এলাকা, সার্কুলার রোড এবং পুরাতন বাজার মোড়ে সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে ট্রেন আসার সময় যখন রেলগেট বন্ধ হয়, তখন যানজটের শিকল ছড়িয়ে পড়ে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ফলে মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষকে একই জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরসভা থেকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক অটোরিকশার অনুমতি থাকলেও প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও ইউনিয়নগুলো থেকে হাজার হাজার অবৈধ অটোরিকশা বেপরোয়াভাবে শহরে ঢুকছে। এগুলোর নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র কিংবা সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক ট্র্যাকিং।

​​নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অনভিজ্ঞ চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এখন নিত্যদিনের চিত্র। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং অনিয়ন্ত্রিত ইউ-টার্নের কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তদুপরি, ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে পথচারীদের বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।

“যে পথ পেরোতে পাঁচ মিনিট লাগার কথা, সেখানে আধা ঘণ্টাতেও পৌঁছানো যাচ্ছে না। শহরে কোনো ট্রাফিক শৃঙ্খলা নেই, যার যেখানে ইচ্ছা সেভাবেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখছে।

​​তীব্র এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল থেকে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে,​ তার মধ্যে শহর এলাকার বাইরে থেকে আসা অবৈধ অটোরিকশা প্রবেশে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ,​জোড়-বিজোড় বা কালার কোডিং ব্যবস্থা, শহরের নিবন্ধনপ্রাপ্ত রিকশাগুলোকে নির্দিষ্ট রঙের ভিত্তিতে দিন অনুযায়ী চালুর নিয়ম করা, ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার শহরের প্রধান মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশের দৃশ্যমান নজরদারি ও স্পট ফাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ​ফুটপাত উদ্ধার, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করা।

​অবিলম্বেই ট্রাফিক বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথ পদক্ষেপ না নিলে গাইবান্ধা শহরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।