
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চল ফজলুপুর ইউনিয়নে চরম নৈরাজ্য ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। দালিলিক কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক নিজেকে ফজলুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দাবি করা মিজানুর রহমান মিলন ওরফে মিলন মিয়ার বেপরোয়া চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক কারবার, চুরি-লুটপাট এবং মিথ্যা মামলার ভয়ে বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের মারাত্মক অভিযোগ, মিলন ও তার আপন ছোট ভাই—ফজলুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শিদ মিয়া—একত্রে হাত মিলিয়ে এক অঘোষিত ‘ত্রাস ও দখলদার সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলেছে। দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক ভিন্ন মেরুর পরিচয়কে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পুরো ইউনিয়নজুড়ে কায়েম করা হয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দখলদারিত্বের রাজত্ব।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মিলন ও মুর্শিদের সিদ্ধান্তের সামান্যতম বিরোধিতা করলেই জোটে মিথ্যা মামলা, জোড় জবরদস্তি এবং এলাকা ছাড়ার সরাসরি হুমকি। এমনকি সুযোগ বুঝে সাধারণ মানুষের জমিজমা ও ঘরবাড়ি গায়ের জোরে দখল করে নেওয়া এই চক্রের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় এক ভুক্তভোগীর বসতবাড়ি থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে তিনটি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে, কিন্তু এই সন্ত্রাসী চক্রের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাননি তিনি।

শুধু তাই নয়, নির্বাচনের মতো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালীন সময়েও এদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে রেহাই মেলেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন পূর্বশত্রুতার জের ধরে মিলন ও মুর্শিদের সরাসরি নেতৃত্বে ভোটকেন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করে প্রকাশ্যে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং অফিসার ও দায়িত্বরত পুলিশের সামনেই এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ফুলছড়ি থানা ও আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকলেও এবং মিলন-মুর্শিদ এখনো জামিন না পেলেও চরাঞ্চলে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা থেমে নেই।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা হাকিম উদ্দিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মিলন মিয়া ও তার ভাই মুর্শিদ মিয়ার লাগামহীন অপকর্ম ও হুমকির মুখে সাধারণ মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রতিনিয়ত মামলা আর হামলার ভয়ে তারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অবিলম্বের এই সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে গ্রেফতার এবং ফজলুপুরে আইনি শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের আশু জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিলনের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















