শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের চালান টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ৪ পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের পুরো চালান ও ব্যবহৃত প্রাইভেটকার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার চার পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। এক ইউপি কার্যালয়ে দিনদুপুরে এই ‘রফা-দফা’ ও সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জেলা পুলিশে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে অভিযুক্তদের হাতীবান্ধা থানা থেকে প্রত্যাহার করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

​প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিমন মিয়া, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান।

​স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডের হাট বাজারের পূর্ব পাশে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালান অভিযুক্ত ওই চার পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযানে একটি সাদা রঙের বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল ও বিপুল পরিমাণের মাদকের চালান জব্দ করা হয়।

​অভিযোগ রয়েছে, জব্দকৃত বিপুল মাদক ও যানবাহন থানায় না নিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা কৌশল বদলে নিকটস্থ ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে শুরু হয় দরকষাকষি। শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে আটককৃত প্রাইভেটকারসহ পুরো মাদকের চালানটি ছেড়ে দিয়ে খালি হাতে সটে পড়েন তারা। ​পুরো ঘটনাটি ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ক্যামেরায় বন্দি হয়ে যায়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পরবর্তীতে এএসআই আব্দুল হাকিম এক ইউপি কর্মচারীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ডিজিটাল মনিটরিং অ্যাপ ও সিসিটিভির গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ জোরপূর্বক মুছে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডে এলাকায় চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন ভবানীপুর গ্রামে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা অন্য একটি অভিযানে গেলে ক্ষুব্ধ জনতা তাদের ঘিরে ধরে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন। এর পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব ও মাদক কারবারিদের ছেড়ে দেওয়ার খবরটি পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কাজ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থেই অভিযুক্ত চার কর্মকর্তা—এসআই তুহিন, এসআই রিমন, এএসআই আব্দুল হাকিম ও এএসআই লুৎফর রহমানকে থানা থেকে সরিয়ে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

​তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয়সহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

স্বঘোষিত বিএনপি নেতা মিলনের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ ফজলুপুর: ভূমি দখল, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া দুই ভাই

error: Content is protected !!

মাদকের চালান টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ৪ পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

প্রকাশের সময়: ০৩:৩৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের পুরো চালান ও ব্যবহৃত প্রাইভেটকার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার চার পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। এক ইউপি কার্যালয়ে দিনদুপুরে এই ‘রফা-দফা’ ও সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জেলা পুলিশে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে অভিযুক্তদের হাতীবান্ধা থানা থেকে প্রত্যাহার করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

​প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিমন মিয়া, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান।

​স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডের হাট বাজারের পূর্ব পাশে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালান অভিযুক্ত ওই চার পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযানে একটি সাদা রঙের বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল ও বিপুল পরিমাণের মাদকের চালান জব্দ করা হয়।

​অভিযোগ রয়েছে, জব্দকৃত বিপুল মাদক ও যানবাহন থানায় না নিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা কৌশল বদলে নিকটস্থ ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে শুরু হয় দরকষাকষি। শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে আটককৃত প্রাইভেটকারসহ পুরো মাদকের চালানটি ছেড়ে দিয়ে খালি হাতে সটে পড়েন তারা। ​পুরো ঘটনাটি ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ক্যামেরায় বন্দি হয়ে যায়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পরবর্তীতে এএসআই আব্দুল হাকিম এক ইউপি কর্মচারীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ডিজিটাল মনিটরিং অ্যাপ ও সিসিটিভির গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ জোরপূর্বক মুছে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডে এলাকায় চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন ভবানীপুর গ্রামে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা অন্য একটি অভিযানে গেলে ক্ষুব্ধ জনতা তাদের ঘিরে ধরে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন। এর পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব ও মাদক কারবারিদের ছেড়ে দেওয়ার খবরটি পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কাজ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থেই অভিযুক্ত চার কর্মকর্তা—এসআই তুহিন, এসআই রিমন, এএসআই আব্দুল হাকিম ও এএসআই লুৎফর রহমানকে থানা থেকে সরিয়ে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

​তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয়সহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।