
আইন-কানুন ও প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং অর্থের বিনিময়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্যবিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ের রাশেদুজ্জামান আশিক নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
বয়স কম থাকায় স্থানীয় কাজী বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে রাজি না হলেও, আশিক তার তথাকথিত ক্ষমতার বলয় দেখিয়ে এক ইমামকে ডেকে নিয়ে এসে বিয়ে সম্পাদন করান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখন তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত ধোপাডাঙ্গা গ্রামের শহীদ মিয়ার কন্যা সুমাইয়া আক্তার ধোপাডাঙ্গা আকন্দ পাড়া দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সম্প্রতি একই ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার মৃত বেলাল মিয়ার পুত্র মো. নিশাত মিয়ার সাথে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে কাজী কনের বয়স বিয়ের উপযুক্ত না থাকায় আইনি ঝামেলা এড়াতে রেজিস্ট্রি করতে কঠোরভাবে অস্বীকৃতি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কাজী চলে যাওয়ার পর বিয়ে পণ্ড হওয়ার উপক্রম হলে ঘটনাস্থলে হাজির হন জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ধারী রাশেদুজ্জামান আশিক। তিনি স্বীয় প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোনো নিয়ম-নীতির পরোয়া না করে এলাকার এক ইমামকে দিয়ে তড়িঘড়ি করে কালমা পড়িয়ে বিয়েটি সম্পন্ন করেন।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, আশিকের বিরুদ্ধে এমন স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। এর আগেও সে আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি ছাড়া কেবল কালমা পড়িয়ে একাধিক বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করেছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও ত্যাগের সুনাম ব্যবহার করে এভাবে প্রতিনিয়ত বেআইনি কাজ চালিয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের আবেদন, জুলাই যোদ্ধার ভুয়া তকমা বা প্রভাব বানিয়ে যারা এভাবে আইন হাতে তুলে নিচ্ছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে প্রশাসনিক ও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত রাশেদুজ্জামান আশিক এবং সংশ্লিষ্ট বিবাহ সম্পাদনকারী ইমামের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















