বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​৭ হাজার টাকার ধারের জেরে মধ্যযুগীয় নির্যাতন ও মুক্তিপণ: সাদুল্লাপুর থানার ‘রহস্যজনক’ নিষ্ক্রিয়তা!

ধার নেওয়া মাত্র ৭ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে অপহরণ, মধ্যযুগীয় নির্যাতন ও ইলেকট্রিক শক দিয়ে লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেনি। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার খোদ্দ মোজাহিদপুর গ্রামের বিপুল প্রামাণিক গত এক বছর আগে ঘেগার বাজারের আরিফুল ইসলামের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা ধার নেন। একাধিকবার সেই পাওনা পরিশোধ করা হলেও আরিফুল পুনরায় টাকা দাবি করে বিপুলকে মানসিক ও শারীরিকভাবে চাপ দিতে থাকেন। এর জের ধরে গত ২০ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আরিফুল ও তার সহযোগীরা একটি ইজিবাইকে এসে বিপুলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

​অভিযোগ রয়েছে, অপহরণের পর বিপুলকে কোনো গোপন স্থানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পাওনা টাকার অজুহাতে স্বজনদের কাছে দাবি করা হয় লাখ টাকার মুক্তিপণ। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার শরীরে একের পর এক দেওয়া হয় ইলেকট্রিক শক। নির্যাতনের একপর্যায়ে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০০ টাকা মূল্যের ৫টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।

​পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় বিপুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. রাফিয়া আক্তার ইতি সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিকিৎসাধীন বিপুলের শরীরে ইলেকট্রিক শকের ক্ষত ও আলামতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিপুল প্রামাণিক বাদী হয়ে আরিফুল ইসলাম, নিশাত মিয়া, আপেল মিয়া, ফারুক মিয়া, ফুল বাবুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে আসামি করে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

​ঘটনার দুই মাস কেটে গেলেও মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী বিপুল প্রামাণিক বলেন, “আমাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে মারধর ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া হলো। ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হলো। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলাম, কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে, আর আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।

​অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফুল ও তার সহযোগীদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

​মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম হাবিবুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করেও কোনো মন্তব্য বা সাড়া পাওয়া যায়নি।

​স্থানীয়দের মতে, সামান্য টাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপহরণ ও ইলেকট্রিক শকের মতো ভয়াবহ অপরাধের সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এবার প্রতিকার চেয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) নিকট লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জনপ্রিয়

​৭ হাজার টাকার ধারের জেরে মধ্যযুগীয় নির্যাতন ও মুক্তিপণ: সাদুল্লাপুর থানার ‘রহস্যজনক’ নিষ্ক্রিয়তা!

error: Content is protected !!

​৭ হাজার টাকার ধারের জেরে মধ্যযুগীয় নির্যাতন ও মুক্তিপণ: সাদুল্লাপুর থানার ‘রহস্যজনক’ নিষ্ক্রিয়তা!

প্রকাশের সময়: ০১:১২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

ধার নেওয়া মাত্র ৭ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে অপহরণ, মধ্যযুগীয় নির্যাতন ও ইলেকট্রিক শক দিয়ে লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেনি। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার খোদ্দ মোজাহিদপুর গ্রামের বিপুল প্রামাণিক গত এক বছর আগে ঘেগার বাজারের আরিফুল ইসলামের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা ধার নেন। একাধিকবার সেই পাওনা পরিশোধ করা হলেও আরিফুল পুনরায় টাকা দাবি করে বিপুলকে মানসিক ও শারীরিকভাবে চাপ দিতে থাকেন। এর জের ধরে গত ২০ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আরিফুল ও তার সহযোগীরা একটি ইজিবাইকে এসে বিপুলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

​অভিযোগ রয়েছে, অপহরণের পর বিপুলকে কোনো গোপন স্থানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পাওনা টাকার অজুহাতে স্বজনদের কাছে দাবি করা হয় লাখ টাকার মুক্তিপণ। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার শরীরে একের পর এক দেওয়া হয় ইলেকট্রিক শক। নির্যাতনের একপর্যায়ে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০০ টাকা মূল্যের ৫টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।

​পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় বিপুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. রাফিয়া আক্তার ইতি সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিকিৎসাধীন বিপুলের শরীরে ইলেকট্রিক শকের ক্ষত ও আলামতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিপুল প্রামাণিক বাদী হয়ে আরিফুল ইসলাম, নিশাত মিয়া, আপেল মিয়া, ফারুক মিয়া, ফুল বাবুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে আসামি করে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

​ঘটনার দুই মাস কেটে গেলেও মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী বিপুল প্রামাণিক বলেন, “আমাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে মারধর ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া হলো। ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হলো। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলাম, কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে, আর আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।

​অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফুল ও তার সহযোগীদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

​মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম হাবিবুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করেও কোনো মন্তব্য বা সাড়া পাওয়া যায়নি।

​স্থানীয়দের মতে, সামান্য টাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপহরণ ও ইলেকট্রিক শকের মতো ভয়াবহ অপরাধের সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এবার প্রতিকার চেয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) নিকট লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।