রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুরা শিক্ষা নয়, পাচ্ছে নির্যাতন! ​পলাশবাড়ীতে বেঞ্চে শুইয়ে ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেটে চাপ দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

​গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রেণিকক্ষেই চরম বর্বরতার শিকার হয়েছে এক কোমলমতি শিক্ষার্থী। পড়া না পারার অপরাধে প্রথম শ্রেণির এক শিশুর পেট মুচড়ে ধরা এবং বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের এক পৈশাচিক অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক মাহাফুজার রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে। শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করা এই ঘটনায় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​আজ দুপুরে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত মাহাফুজার রহমান মিথুন বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।

​ঘটনার পর সংবাদকর্মীরা ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়িতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। শিশুটি আকুতি জানিয়ে বলে, “পড়া না পারলে মিথুন স্যার সব সময় এভাবে পেট মুচড়ে ধরে কষ্ট দেন। আজ দুপুর একটার দিকে পড়া দিতে না পারায় স্যার এত জোরে পেটে চাপ দেন যে আমি সহ্য করতে না পেরে কেঁদে ফেলি।” শিশুটি আরও প্রকাশ করে যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এর আগেও একদিন পড়া না পারার বাহানায় তাকে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে শুইয়ে একইভাবে পেটে চাপ দিয়ে নির্যাতন চালিয়েছিলেন এই শিক্ষক।

​এদিকে, কোমলমতি শিশুর ওপর এমন শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় অনুশোচনা তো দূরের কথা, বিষয়টি ঢাকতে নির্লজ্জ সাফাই গেয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তার। শিক্ষকের অন্যায়ের জবাবদিহি না করে উল্টো সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন কণ্ঠে বলেন, “আজ একটি অভিযোগ পেয়ে আপনারা এসেছেন, কিন্তু এর আগে বিদ্যালয়টি কত ভালো কাজ করেছে বা ভালো ফলাফল এনেছে, তখন তো আপনারা আসেননি।” প্রধান শিক্ষকের এমন উদ্ধত্যপূর্ণ ও অসংবেদনশীল আচরণে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে চণ্ড ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে।

​নির্দয় এই নির্যাতনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুমান আরা গোলেনুর বলেন, “সহকারী শিক্ষক মাহফুজার রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের একটি লিখিত/মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

​স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে টালবাহানা না করে অবিলম্বে এই অভিযুক্ত নির্যাতনকারী শিক্ষককে বরখাস্ত করতে হবে এবং একইসঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

জনপ্রিয়

শিশুরা শিক্ষা নয়, পাচ্ছে নির্যাতন! ​পলাশবাড়ীতে বেঞ্চে শুইয়ে ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেটে চাপ দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

error: Content is protected !!

শিশুরা শিক্ষা নয়, পাচ্ছে নির্যাতন! ​পলাশবাড়ীতে বেঞ্চে শুইয়ে ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেটে চাপ দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

প্রকাশের সময়: ০৮:১৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

​গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রেণিকক্ষেই চরম বর্বরতার শিকার হয়েছে এক কোমলমতি শিক্ষার্থী। পড়া না পারার অপরাধে প্রথম শ্রেণির এক শিশুর পেট মুচড়ে ধরা এবং বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের এক পৈশাচিক অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক মাহাফুজার রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে। শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করা এই ঘটনায় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​আজ দুপুরে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত মাহাফুজার রহমান মিথুন বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।

​ঘটনার পর সংবাদকর্মীরা ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়িতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। শিশুটি আকুতি জানিয়ে বলে, “পড়া না পারলে মিথুন স্যার সব সময় এভাবে পেট মুচড়ে ধরে কষ্ট দেন। আজ দুপুর একটার দিকে পড়া দিতে না পারায় স্যার এত জোরে পেটে চাপ দেন যে আমি সহ্য করতে না পেরে কেঁদে ফেলি।” শিশুটি আরও প্রকাশ করে যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এর আগেও একদিন পড়া না পারার বাহানায় তাকে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে শুইয়ে একইভাবে পেটে চাপ দিয়ে নির্যাতন চালিয়েছিলেন এই শিক্ষক।

​এদিকে, কোমলমতি শিশুর ওপর এমন শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় অনুশোচনা তো দূরের কথা, বিষয়টি ঢাকতে নির্লজ্জ সাফাই গেয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তার। শিক্ষকের অন্যায়ের জবাবদিহি না করে উল্টো সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন কণ্ঠে বলেন, “আজ একটি অভিযোগ পেয়ে আপনারা এসেছেন, কিন্তু এর আগে বিদ্যালয়টি কত ভালো কাজ করেছে বা ভালো ফলাফল এনেছে, তখন তো আপনারা আসেননি।” প্রধান শিক্ষকের এমন উদ্ধত্যপূর্ণ ও অসংবেদনশীল আচরণে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে চণ্ড ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে।

​নির্দয় এই নির্যাতনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুমান আরা গোলেনুর বলেন, “সহকারী শিক্ষক মাহফুজার রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের একটি লিখিত/মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

​স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে টালবাহানা না করে অবিলম্বে এই অভিযুক্ত নির্যাতনকারী শিক্ষককে বরখাস্ত করতে হবে এবং একইসঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।