রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাড়ে ৩ মাসেই নদীগর্ভে ৭ লাখ টাকার সেতু: প্রকৌশলী-ঠিকাদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হরিলুটের অভিযোগ

জনদুর্ভোগ লাঘবের নামে সরকারি অর্থ লোপাটের এক নজিরবিহীন চিত্র দেখা গেছে গাইবান্ধায়। জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি কাঠের সেতু উদ্বোধনের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ পকেটস্থ করা হয়েছে।

​সরেজমিনে গাইবান্ধা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়ারজান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আলাই নদীর ওপর নির্মিত কাঠ ও বাঁশের রেলিংযুক্ত সেতুটির কোনো অস্তিত্বই আর অবশিষ্ট নেই। নদীর সামান্য স্রোতেই কয়েক দিন আগে সেতুটি হেলে পড়ে। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছিলেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় বোয়ালী ইউনিয়নের কয়ারপাড়া, ছয়ঘড়িয়া, ফলিয়া ও চন্দিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করলেও ভোগান্তি নিরসনে ৭ লাখ টাকার সরকারি বরাদ্দ আসে। কিন্তু বাস্তবে ৩ লাখ টাকার কাজও করা হয়নি।

​বানিয়ারজান এলাকার বাসিন্দা ফরিদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কংক্রিটের খুঁটিগুলো পর্যাপ্ত গভীরে না পুঁতে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছিল। কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করলেও কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে এই কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মূল কারিগর জেলা পরিষদের প্রকৌশলী হারুন।”

​পথচারী রাজাক মিয়া হতাশা প্রকাশ করে জানান, ভোগান্তি কমার আশায় বুক বাঁধলেও এখন আগের চেয়েও বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ পথ ঘুরে এখন জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।

​এ বিষয়ে জানতে জেলা পরিষদের প্রকৌশলী হারুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “অফিসে আসেন, সরাসরি কথা হবে” বলেই কলটি কেটে দেন।

​অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস দায়সারা বক্তব্যে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। তবে এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী মৌসুমে সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

​সরকারি বরাদ্দের এই প্রকাশ্য অপচয় ও দুর্নীতির ঘটনায় ফুঁসে উঠছেন স্থানীয়রা। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জনপ্রিয়

সাড়ে ৩ মাসেই নদীগর্ভে ৭ লাখ টাকার সেতু: প্রকৌশলী-ঠিকাদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হরিলুটের অভিযোগ

error: Content is protected !!

সাড়ে ৩ মাসেই নদীগর্ভে ৭ লাখ টাকার সেতু: প্রকৌশলী-ঠিকাদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হরিলুটের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০২:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনদুর্ভোগ লাঘবের নামে সরকারি অর্থ লোপাটের এক নজিরবিহীন চিত্র দেখা গেছে গাইবান্ধায়। জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি কাঠের সেতু উদ্বোধনের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ পকেটস্থ করা হয়েছে।

​সরেজমিনে গাইবান্ধা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়ারজান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আলাই নদীর ওপর নির্মিত কাঠ ও বাঁশের রেলিংযুক্ত সেতুটির কোনো অস্তিত্বই আর অবশিষ্ট নেই। নদীর সামান্য স্রোতেই কয়েক দিন আগে সেতুটি হেলে পড়ে। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছিলেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় বোয়ালী ইউনিয়নের কয়ারপাড়া, ছয়ঘড়িয়া, ফলিয়া ও চন্দিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করলেও ভোগান্তি নিরসনে ৭ লাখ টাকার সরকারি বরাদ্দ আসে। কিন্তু বাস্তবে ৩ লাখ টাকার কাজও করা হয়নি।

​বানিয়ারজান এলাকার বাসিন্দা ফরিদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কংক্রিটের খুঁটিগুলো পর্যাপ্ত গভীরে না পুঁতে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছিল। কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করলেও কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে এই কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মূল কারিগর জেলা পরিষদের প্রকৌশলী হারুন।”

​পথচারী রাজাক মিয়া হতাশা প্রকাশ করে জানান, ভোগান্তি কমার আশায় বুক বাঁধলেও এখন আগের চেয়েও বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ পথ ঘুরে এখন জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।

​এ বিষয়ে জানতে জেলা পরিষদের প্রকৌশলী হারুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “অফিসে আসেন, সরাসরি কথা হবে” বলেই কলটি কেটে দেন।

​অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস দায়সারা বক্তব্যে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। তবে এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী মৌসুমে সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

​সরকারি বরাদ্দের এই প্রকাশ্য অপচয় ও দুর্নীতির ঘটনায় ফুঁসে উঠছেন স্থানীয়রা। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।