বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকতার খোলসে কুৎসিত চাঁদাবাজি: ফুলছড়িতে নৌভ্রমণে তরুণ-তরুণীকে জিম্মি করে ব্ল্যাকমেইল!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০২:৫২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৯১ বার পড়া হয়েছে

সাংবাদিকতা যেখানে অনিয়ম-অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার হাতিয়ার, সেখানে সেই পরিচয়কেই অস্ত্র বানিয়ে এক তরুণ-তরুণীকে জিম্মি, উলঙ্গ করে ছবি ধারণ এবং দফায় দফায় ব্ল্যাকমেইলের এক বিভৎস অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা ও পলাশবাড়ীর একদল ‘সাংবাদিক’ নামধারী অপরাধীর বিরুদ্ধে।

​ফুলছড়ির যমুনা নদীতে নৌভ্রমণে গিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়া ওই তরুণী দফায় দফায় আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলেও জানা গেছে। শুধু ভুক্তভোগী পরিবারই নয়, এই সাংবাদিকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি তরুণ-তরুণীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধার ফুলছড়িতে নদীতে নৌকায় ঘুরতে যান এক তরুণ ও তরুণী। কিন্তু সেখানে তাদের পিছু নেয় পলাশবাড়ী ও গাইবান্ধার একদল একদল সাংবাদিক । তারা নৌকা আটকিয়ে তরুণ-তরুণীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাদের পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয় এবং সেই নগ্ন দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করা হয়।

​এখানেই শেষ নয়, ভুক্তভোগীদের সাথে থাকা নগদ টাকা, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তিতে সেই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী ছিনিয়ে নেয়া মালামালের স্বীকারোক্তিও প্রদান করে কতিপয় সাংবাদিক।

সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান তার ব্যাগে রাখা হয়েছিল ছিনিয়ে নেয়া মালামাল পরবর্তিতে অন্য একজন তা নিয়ে নেয়।​

এ সব করেই ক্ষান্ত হননি তারা ​ পরবর্তিতে শুরু করেন ব্ল্যাকমেইলের দ্বিতীয় ধাপ। ধারণ করা আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

​পরবর্তীতে ঐ চক্রটি তরুণ-তরুণীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট স্কুলপ্রধানের কাছে গিয়েও বিশাল অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও সম্মান পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দেন তারা।

​লোকচক্ষু ও সামাজিকভাবে চরম হেয় হওয়ার ভয়ে শেষ পর্যন্ত উভয় পরিবার মিলে তরুণ-তরুণীর বিয়ের ব্যবস্থা করলেও, এই বিভৎস ঘটনার মানসিক ট্রমা সইতে না পেরে ওই তরুণী একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

​​এত বড় একটি স্পর্শকাতর ও ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে কেন এত নীরবতা? ফেসবুকে দু-চারজন সাংবাদিকের অস্পষ্ট পোস্ট ছাড়া কোনো পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান বা অভিযুক্তদের মুখোশ উন্মোচনের দৃশ্যমান উদ্যোগ কেন দেখা যাচ্ছে না?

​প্রশ্ন উঠছে— গলায় কার্ড ঝুলিয়ে কিংবা হাতে মাইক নিয়ে ঘুরলেই কি পার পেয়ে যাওয়া যাবে এমন জঘন্য অপরাধ করে? ‘সাংবাদিক’ পরিচয় কি অপকর্ম ঢাকবার ঢাল বা ব্ল্যাকমেইলের লাইসেন্স? গোটা সাংবাদিক সমাজ কি গুটিকয়েক চাঁদাবাজ ও ব্ল্যাকমেইলারের অপকর্মের দায় নেবে?

​স্থানীয় সচেতন সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবারের স্পষ্ট দাবি— গাইবান্ধা ও পলাশবাড়ীর নৈতিকতাসম্পন্ন পেশাদার সাংবাদিকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এই ঘটনাকে কোনোভাবেই ধামাচাপা পড়তে দেওয়া যাবে না। নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে ওই সাংবাদিকদের প্রকৃত নাম-পরিচয় এবং তাদের এই চাঁদাবাজির খবর জনসমক্ষে উন্মোচন করতে হবে।

​একই সঙ্গে, অবিলম্বে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সবাই। সেই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, সাংবাদিকতার আড়ালে এই ‘জিম্মি ব্যবসা’ বন্ধ করতেই হবে বলে দাবী জানিয়েছেন সুশীল সমাজ।

জনপ্রিয়

সাংবাদিকতার খোলসে কুৎসিত চাঁদাবাজি: ফুলছড়িতে নৌভ্রমণে তরুণ-তরুণীকে জিম্মি করে ব্ল্যাকমেইল!

error: Content is protected !!

সাংবাদিকতার খোলসে কুৎসিত চাঁদাবাজি: ফুলছড়িতে নৌভ্রমণে তরুণ-তরুণীকে জিম্মি করে ব্ল্যাকমেইল!

প্রকাশের সময়: ০২:৫২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

সাংবাদিকতা যেখানে অনিয়ম-অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার হাতিয়ার, সেখানে সেই পরিচয়কেই অস্ত্র বানিয়ে এক তরুণ-তরুণীকে জিম্মি, উলঙ্গ করে ছবি ধারণ এবং দফায় দফায় ব্ল্যাকমেইলের এক বিভৎস অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা ও পলাশবাড়ীর একদল ‘সাংবাদিক’ নামধারী অপরাধীর বিরুদ্ধে।

​ফুলছড়ির যমুনা নদীতে নৌভ্রমণে গিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়া ওই তরুণী দফায় দফায় আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলেও জানা গেছে। শুধু ভুক্তভোগী পরিবারই নয়, এই সাংবাদিকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি তরুণ-তরুণীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধার ফুলছড়িতে নদীতে নৌকায় ঘুরতে যান এক তরুণ ও তরুণী। কিন্তু সেখানে তাদের পিছু নেয় পলাশবাড়ী ও গাইবান্ধার একদল একদল সাংবাদিক । তারা নৌকা আটকিয়ে তরুণ-তরুণীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাদের পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয় এবং সেই নগ্ন দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করা হয়।

​এখানেই শেষ নয়, ভুক্তভোগীদের সাথে থাকা নগদ টাকা, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তিতে সেই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী ছিনিয়ে নেয়া মালামালের স্বীকারোক্তিও প্রদান করে কতিপয় সাংবাদিক।

সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান তার ব্যাগে রাখা হয়েছিল ছিনিয়ে নেয়া মালামাল পরবর্তিতে অন্য একজন তা নিয়ে নেয়।​

এ সব করেই ক্ষান্ত হননি তারা ​ পরবর্তিতে শুরু করেন ব্ল্যাকমেইলের দ্বিতীয় ধাপ। ধারণ করা আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

​পরবর্তীতে ঐ চক্রটি তরুণ-তরুণীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট স্কুলপ্রধানের কাছে গিয়েও বিশাল অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও সম্মান পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দেন তারা।

​লোকচক্ষু ও সামাজিকভাবে চরম হেয় হওয়ার ভয়ে শেষ পর্যন্ত উভয় পরিবার মিলে তরুণ-তরুণীর বিয়ের ব্যবস্থা করলেও, এই বিভৎস ঘটনার মানসিক ট্রমা সইতে না পেরে ওই তরুণী একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

​​এত বড় একটি স্পর্শকাতর ও ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে কেন এত নীরবতা? ফেসবুকে দু-চারজন সাংবাদিকের অস্পষ্ট পোস্ট ছাড়া কোনো পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান বা অভিযুক্তদের মুখোশ উন্মোচনের দৃশ্যমান উদ্যোগ কেন দেখা যাচ্ছে না?

​প্রশ্ন উঠছে— গলায় কার্ড ঝুলিয়ে কিংবা হাতে মাইক নিয়ে ঘুরলেই কি পার পেয়ে যাওয়া যাবে এমন জঘন্য অপরাধ করে? ‘সাংবাদিক’ পরিচয় কি অপকর্ম ঢাকবার ঢাল বা ব্ল্যাকমেইলের লাইসেন্স? গোটা সাংবাদিক সমাজ কি গুটিকয়েক চাঁদাবাজ ও ব্ল্যাকমেইলারের অপকর্মের দায় নেবে?

​স্থানীয় সচেতন সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবারের স্পষ্ট দাবি— গাইবান্ধা ও পলাশবাড়ীর নৈতিকতাসম্পন্ন পেশাদার সাংবাদিকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এই ঘটনাকে কোনোভাবেই ধামাচাপা পড়তে দেওয়া যাবে না। নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে ওই সাংবাদিকদের প্রকৃত নাম-পরিচয় এবং তাদের এই চাঁদাবাজির খবর জনসমক্ষে উন্মোচন করতে হবে।

​একই সঙ্গে, অবিলম্বে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সবাই। সেই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, সাংবাদিকতার আড়ালে এই ‘জিম্মি ব্যবসা’ বন্ধ করতেই হবে বলে দাবী জানিয়েছেন সুশীল সমাজ।