শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাদ্য গুদামের অনিয়ম ঢাকা দিতে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বাংলাহিলি সরকারি খাদ্য গুদামে (এলএসডি) চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহে বড় ধরনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন এক স্থানীয় সাংবাদিক। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হাকিমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

​জিডিটি দায়ের করেছেন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও মুভিবাংলা টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি এবং হাকিমপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ মোকছেদুল মমিন (মোয়াজ্জেম)।

​জিডির আবেদন ও অনুসন্ধ্যান সূত্রে জানা যায়, সরকার চলতি বোরো মৌসুমে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের লক্ষ্যে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করে। তবে একটি অসাধু চক্র প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে ভুয়া ও অ-কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ধান বিক্রির আবেদন জমা দেয়। অনুসন্ধানে একই মোবাইল নম্বর একাধিক কৃষকের নামে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাংবাদিক মোকছেদুল মমিন জানান, অনিয়মের তথ্য যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে গত ২১ জুলাই বিকেলে তিনি সরকারি কৃষক তালিকায় থাকা আবুল কাশেম মণ্ডল নামের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন। ৩৪ সেকেন্ডের ওই কথোপকথনে ওই ব্যক্তি খাদ্য গুদামে প্রায় তিন মেট্রিক টন ধান সরবরাহ করার বিষয়টি স্বীকার করেন।
​অভিযোগে বলা হয়, উক্ত ফোনালাপের ঠিক ১২ মিনিট পর ওই একই নম্বর থেকে সাংবাদিক মোয়াজ্জেমের ফোনে আবার কল আসে। ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজের পরিচয় না দিয়ে অত্যন্ত উত্তেজিত ভাষায় গালাগাল শুরু করেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে এক মিনিটের মধ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ওই সাংবাদিক ও তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মীদের মধ্যে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

​পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হুমকিদাতা ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে ‘ডিলার সাখো’ নামে পরিচিত মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বাংলাহিলি বাজারে সরকারি খাদ্য গুদামের ধান-চাল কেনাবেচার অসাধু প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদ ও কেনাবেচার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল।

​সাংবাদিক মোয়াজ্জেম জানান, সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণাদি (কল রেকর্ড ও ভুয়া কৃষক তালিকার কপি) সংগ্রহ করার কারণে জিডি করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

​ঘটনার সময় উপস্থিত সাক্ষী হিসেবে দৈনিক ইনকিলাবের হিলি প্রতিনিধি মো. মোসলেম উদ্দিন, দৈনিক যায়যায়দিনের হাকিমপুর প্রতিনিধি রমেন বসাক এবং দৈনিক সমকালের হাকিমপুর প্রতিনিধি মো. আবু মুসাসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকের নাম জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

খাদ্য গুদামের অনিয়ম ঢাকা দিতে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

error: Content is protected !!

খাদ্য গুদামের অনিয়ম ঢাকা দিতে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

প্রকাশের সময়: ০৬:২৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বাংলাহিলি সরকারি খাদ্য গুদামে (এলএসডি) চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহে বড় ধরনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন এক স্থানীয় সাংবাদিক। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হাকিমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

​জিডিটি দায়ের করেছেন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও মুভিবাংলা টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি এবং হাকিমপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ মোকছেদুল মমিন (মোয়াজ্জেম)।

​জিডির আবেদন ও অনুসন্ধ্যান সূত্রে জানা যায়, সরকার চলতি বোরো মৌসুমে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের লক্ষ্যে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করে। তবে একটি অসাধু চক্র প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে ভুয়া ও অ-কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ধান বিক্রির আবেদন জমা দেয়। অনুসন্ধানে একই মোবাইল নম্বর একাধিক কৃষকের নামে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাংবাদিক মোকছেদুল মমিন জানান, অনিয়মের তথ্য যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে গত ২১ জুলাই বিকেলে তিনি সরকারি কৃষক তালিকায় থাকা আবুল কাশেম মণ্ডল নামের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন। ৩৪ সেকেন্ডের ওই কথোপকথনে ওই ব্যক্তি খাদ্য গুদামে প্রায় তিন মেট্রিক টন ধান সরবরাহ করার বিষয়টি স্বীকার করেন।
​অভিযোগে বলা হয়, উক্ত ফোনালাপের ঠিক ১২ মিনিট পর ওই একই নম্বর থেকে সাংবাদিক মোয়াজ্জেমের ফোনে আবার কল আসে। ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজের পরিচয় না দিয়ে অত্যন্ত উত্তেজিত ভাষায় গালাগাল শুরু করেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে এক মিনিটের মধ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ওই সাংবাদিক ও তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মীদের মধ্যে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

​পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হুমকিদাতা ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে ‘ডিলার সাখো’ নামে পরিচিত মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বাংলাহিলি বাজারে সরকারি খাদ্য গুদামের ধান-চাল কেনাবেচার অসাধু প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদ ও কেনাবেচার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল।

​সাংবাদিক মোয়াজ্জেম জানান, সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণাদি (কল রেকর্ড ও ভুয়া কৃষক তালিকার কপি) সংগ্রহ করার কারণে জিডি করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

​ঘটনার সময় উপস্থিত সাক্ষী হিসেবে দৈনিক ইনকিলাবের হিলি প্রতিনিধি মো. মোসলেম উদ্দিন, দৈনিক যায়যায়দিনের হাকিমপুর প্রতিনিধি রমেন বসাক এবং দৈনিক সমকালের হাকিমপুর প্রতিনিধি মো. আবু মুসাসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকের নাম জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।