
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহানা পারভিন সুমি নামের এক নারী প্রধান সহকারীকে (নার্স) অফিসে ঢুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হামলাকারী শামসুজ্জোহা আলম সোহাগ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরই জুনিয়র মেকানিক। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী নারীকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০ টার কিছু পরেই অফিস কক্ষে দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে প্রধান সহকারী শাহানা পারভিন সুমির সাথে মেকানিক সোহাগের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে ভারী স্ট্যাপলার ও স্টিলের স্কেল দিয়ে সুমির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। এতে রক্তক্ষরণে সুমি মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে সোহাগ তাঁর ঘাড় ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এ সময় ভুক্তভোগীর আর্তচিৎকারে ল্যাব টেকনোলজিস্ট আমিনুল ইসলাম মানিক ও অফিস সহকারী আব্দুল মতিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত ছুটে এসে সুমিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই দেন। এ ছাড়া তাঁর ঘাড়, গলা ও হাতে আঘাতের গুরুতর চিহ্ন রয়েছে।
হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, অভিযুক্ত মেকানিক সোহাগের বাড়ি হাসপাতালের কাছাকাছি হওয়ায় সে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে আসছিল। কর্মস্থলে নারী সহকর্মীর ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁরা অবিলম্বে সোহাগের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও চাকরি থেকে অপসারণসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 















