সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাদা-আবর্জনায় সড়ক অবরুদ্ধ: গাইবান্ধায় ড্রেন পরিষ্কারের নামে নরকযন্ত্রণা!

ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তা বাস্তবায়নের ধরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে গাইবান্ধা পৌরবাসীর মনে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা সার্কুলার সড়কের বিএনপি অফিসের সামনে থেকে দাস বেকারী মোড় পর্যন্ত ড্রেন পরিষ্কার করে সেই কালো কাদা ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য সরানোর বদলে ফেলে রাখা হয়েছে প্রধান রাস্তার ওপরই। ফলে দীর্ঘ পথ জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা ও পচা কাদার ভাগাড়।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ততম এই সার্কুলার সড়কের ড্রেন থেকে তোলা বিষাক্ত কাদা ও আবর্জনা সরাসরি চলাচলের মূল রাস্তায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। দিনভর রিকশা, অটোইজিবাইক ও পথচারীদের যাতায়াতের ফলে সেই কাদা পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে এক নরকযন্ত্রনার সৃষ্টি করেছে। যানবাহন চলাচলের সময় চাকার ঘর্ষণে বিষাক্ত কাদা ছিটে পড়ছে পথচারীদের পোশাক ও আশপাশের দোকানপাটে।

​সড়কটির পাশেই রয়েছে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য সামগ্রীর দোকান। বাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে এমন নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশের কারণে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সেই সাথে ছড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝাঁকি ও ডেঙ্গুসহ নানা মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা।

​স্থানীয় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে পৌরসভা যেন সাধারণ মানুষকে আরও বেশি শাস্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ড্রেনের ময়লা তুলে যদি রাস্তায়ই ফেলে রাখা হয়, তবে সেই পরিষ্কারের লাভ কী? ড্রেনের ময়লা গাড়িতে করে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি দিনভর রাস্তায় ফেলে রাখা হচ্ছে।

​অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, “দুর্গন্ধের কারণে দোকানে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। ক্রেতারাও বাধ্য হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে জানান বৃষ্টির কারনে এমনটা হয়েছে তবে অতিদ্রুত ময়লা অপসরনের ব্যবস্থা করা হবে।

​পৌরবাসীর দাবি, এভাবে অর্ধবিত্ত ও অপরিকল্পিতভাবে কাজ না করে ড্রেন থেকে বর্জ্য তোলার পরপরই তা ট্রাকে করে সুনির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ করতে হবে। একই সাথে জমে থাকা কাদা দ্রুত পরিষ্কার করে সড়কটিকে চলাচলের উপযোগী করতে গাইবান্ধা পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

জনপ্রিয়

ডাঃ সাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান

error: Content is protected !!

কাদা-আবর্জনায় সড়ক অবরুদ্ধ: গাইবান্ধায় ড্রেন পরিষ্কারের নামে নরকযন্ত্রণা!

প্রকাশের সময়: ০১:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তা বাস্তবায়নের ধরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে গাইবান্ধা পৌরবাসীর মনে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা সার্কুলার সড়কের বিএনপি অফিসের সামনে থেকে দাস বেকারী মোড় পর্যন্ত ড্রেন পরিষ্কার করে সেই কালো কাদা ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য সরানোর বদলে ফেলে রাখা হয়েছে প্রধান রাস্তার ওপরই। ফলে দীর্ঘ পথ জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা ও পচা কাদার ভাগাড়।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ততম এই সার্কুলার সড়কের ড্রেন থেকে তোলা বিষাক্ত কাদা ও আবর্জনা সরাসরি চলাচলের মূল রাস্তায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। দিনভর রিকশা, অটোইজিবাইক ও পথচারীদের যাতায়াতের ফলে সেই কাদা পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে এক নরকযন্ত্রনার সৃষ্টি করেছে। যানবাহন চলাচলের সময় চাকার ঘর্ষণে বিষাক্ত কাদা ছিটে পড়ছে পথচারীদের পোশাক ও আশপাশের দোকানপাটে।

​সড়কটির পাশেই রয়েছে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য সামগ্রীর দোকান। বাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে এমন নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশের কারণে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সেই সাথে ছড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝাঁকি ও ডেঙ্গুসহ নানা মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা।

​স্থানীয় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে পৌরসভা যেন সাধারণ মানুষকে আরও বেশি শাস্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ড্রেনের ময়লা তুলে যদি রাস্তায়ই ফেলে রাখা হয়, তবে সেই পরিষ্কারের লাভ কী? ড্রেনের ময়লা গাড়িতে করে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি দিনভর রাস্তায় ফেলে রাখা হচ্ছে।

​অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, “দুর্গন্ধের কারণে দোকানে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। ক্রেতারাও বাধ্য হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে জানান বৃষ্টির কারনে এমনটা হয়েছে তবে অতিদ্রুত ময়লা অপসরনের ব্যবস্থা করা হবে।

​পৌরবাসীর দাবি, এভাবে অর্ধবিত্ত ও অপরিকল্পিতভাবে কাজ না করে ড্রেন থেকে বর্জ্য তোলার পরপরই তা ট্রাকে করে সুনির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ করতে হবে। একই সাথে জমে থাকা কাদা দ্রুত পরিষ্কার করে সড়কটিকে চলাচলের উপযোগী করতে গাইবান্ধা পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।