
একটিমাত্র চেক, অথচ তার পেছনের প্রভাবটুকু গভীর সুবাতাসের মতো। যে হাত দুটো এত দিন অভাব আর অনিশ্চয়তার ভারী বোঝা বহন করছিল, সেই হাতগুলোতেই যখন এসে পৌঁছাল সামান্য কিছু নগদ অর্থ—এক মুহূর্তেই বদলে গেল দৃশ্যপট। নিভে যাওয়া চোখের কোণে ফুটে উঠল স্বস্তির আলোকচ্ছটা, আর মলিন মুখে জমল একফালি নিঃশর্ত হাসি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অথচ আবেগঘন অনুষ্ঠানে এভাবেই মানবিকতার নতুন নজির স্থাপিত হলো। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা নিজস্ব তহবিলের মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে তিনজন চরম অসহায় ও দুস্থ মানুষের হাতে তুলে দেন আর্থিক সহায়তার চেক।
সহায়তার অঙ্ক হয়তো অনেক বড় কোনো পরিসংখ্যান নয়, কিন্তু এই তিনটি পরিবারের কাছে এ এক টুকরো বেঁচে থাকার রসদ এবং ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি। অনুদানের চেক হাতে পাওয়ার পর উপকারভোগীরা তাঁদের তাৎক্ষণিক অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠান শেষে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, “সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা মানুষ। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল কোনো সরকারি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মানবিকতার এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই একদিন সমাজকে সুন্দর ও বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলবে।

মানুষ মানুষের জন্য—এই চিরন্তন সত্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন গাইবান্ধার সচেতন নাগরিক সমাজ। তাঁদের মতে, বিত্তবান ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে এগিয়ে এলে অনেক নিভে যাওয়া প্রদীপ আবারও জ্বলে উঠতে পারে।
আজকের এই তিন জোড়া হাসিমুখ কেবল একটি প্রশাসনিক সহায়তার গল্প নয়,এটি প্রমাণ করে—আন্তরিকতার সামান্য স্পর্শ পেলেই সমাজে আশার প্রদীপগুলো নতুন করে জ্বলতে শুরু করে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














