
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মুন্সিরহাট খেয়াঘাট এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শাহ আলম ও মুকুল পক্ষের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতদের উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহ আলমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন। এছাড়া এক্সরে রিপোর্টে শাহ আলমের স্ত্রীর বাম হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে মুন্সিরহাট খেয়াঘাট এলাকার একটি নৌকার ভেতর এই মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বর্তমানে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নৌকাচালক শাহ আলম জানান, ঘটনার দিন তিনি মুন্সিরহাট খেয়াঘাট এলাকায় নিজের নৌকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুকুল ও তার লোকজন লাঠিসোটা, লোহার রড, ধারালো ছোরা ও সাবল নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে তার মাথা লক্ষ্য করে সজোরে আঘাত করা হলে ডান চোখের ওপরের অংশ ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
তিনি আরও জানান, তার চিৎकारी স্বামী বাঁচাতে স্ত্রী সুখী বেগম এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হয়। লোহার রডের আঘাত থেকে মাথা রক্ষা করতে গেলে সুখী বেগমের বাম হাতের কবজির ওপরের হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয়।
অন্যদিকে, অপর পক্ষের মুকুল দাবি করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে শাহ আলম ও তার লোকজন নৌকাঘাটে তাকে একা পেয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এদিকে, এই মারধরের ঘটনায় উভয় পক্ষই ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে সাঘাটা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে সাঘাটা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















