শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার কথা না শুনলে ভারতে পাঠিয়ে দিব -হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকদের ইউএনও’র হুমকী

 

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন লোককে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মুনসুর উদ্দিনের বিরুদ্ধে। আদিতমারি উপজেলার গন্ধ মরুয়া গ্রামে ১৬টি গৃহহীন পরিবারের জন্য বঙ্গবন্ধু পল্লীতে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগি করুনা কান্ত রায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কালীরহাট আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে ১৬টি গৃহহীন পরিবারের জন্য বঙ্গবন্ধু পল্লীতে বৃষ্টির পানি জমে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। আশ্রায়ন প্রকল্পের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মানের প্রয়োজন দেখা দেয়। এজন্য আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন নিজেই উপস্থিত থেকে আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশে করুনা কান্ত রায়ের জমির মাঝ বরাবর পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরির কাজ শুরু করেন।

করুনা কান্ত তার জমির মাঝ বরাবর ড্রেন নির্মানে বাঁধা দিয়ে বলেন, জমির মাঝ বরাবর দিয়ে ড্রেন না করে জমির এক পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মান করেন তাতে আমার জমিটা ভাল থাকবে। এ সময় ওই এলাকার অমূল্য কুমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মুনসুর উদ্দিনকে পানি নিষ্কাশনের নালা জমির এক পাশ দিয়ে দিতে বলেন। যাতে করে ফসলি জমি নষ্ট না হয়। এ কথা শোনার সাথে সাথেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং আদিতমারী থানায় ফোন করে ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে আসেন। আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসা মাত্র নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মুনসুর উদ্দিন জমির মালিক করুনা কান্ত রায়সহ প্রতিবেশি সুনিল কুমার ও অমূল্য কুমারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, আমি এই উপজেলার মালিক, আমি ইউএনও মনসুর উদ্দিন বলছি, আমি এই উপজেলার মালিক। আমি যে সিদ্ধান্ত দিবো সেটাই সবাইকে মেনে নিতে হবে। এর পরেও যদি এখানে কেউ কথা বলার সাহস দেখায় তাহলে তাদের জমি খাস করে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করে একেবারে ভারতে পাঠিয়ে দিব।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী করুনা কান্ত রায় কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়ে তার এ আচরণে আমরা মর্মাহত। একজন ইউএনও সাধারণ মানুষের সাথে কিভাবে অসৌজন্য মূলক আচরণ করতে পারেন আমার জানা নেই। আমি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় তদন্ত করে সঠিক বিচার করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনকে তার সেল ফোনে বার বার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমন কি তাকে মেসেজ করেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

জনপ্রিয়

​বিকাশ এজেন্টের টাকা-বাইক লুট: উদ্ধার আকুতির মাঝে চাদাবাজি চক্র, সুন্দরগঞ্জ থানার নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ

error: Content is protected !!

আমার কথা না শুনলে ভারতে পাঠিয়ে দিব -হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকদের ইউএনও’র হুমকী

প্রকাশের সময়: ০৫:১২:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জুলাই ২০২১

 

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন লোককে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মুনসুর উদ্দিনের বিরুদ্ধে। আদিতমারি উপজেলার গন্ধ মরুয়া গ্রামে ১৬টি গৃহহীন পরিবারের জন্য বঙ্গবন্ধু পল্লীতে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগি করুনা কান্ত রায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কালীরহাট আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে ১৬টি গৃহহীন পরিবারের জন্য বঙ্গবন্ধু পল্লীতে বৃষ্টির পানি জমে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। আশ্রায়ন প্রকল্পের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মানের প্রয়োজন দেখা দেয়। এজন্য আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন নিজেই উপস্থিত থেকে আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশে করুনা কান্ত রায়ের জমির মাঝ বরাবর পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরির কাজ শুরু করেন।

করুনা কান্ত তার জমির মাঝ বরাবর ড্রেন নির্মানে বাঁধা দিয়ে বলেন, জমির মাঝ বরাবর দিয়ে ড্রেন না করে জমির এক পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মান করেন তাতে আমার জমিটা ভাল থাকবে। এ সময় ওই এলাকার অমূল্য কুমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মুনসুর উদ্দিনকে পানি নিষ্কাশনের নালা জমির এক পাশ দিয়ে দিতে বলেন। যাতে করে ফসলি জমি নষ্ট না হয়। এ কথা শোনার সাথে সাথেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং আদিতমারী থানায় ফোন করে ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে আসেন। আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসা মাত্র নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মুনসুর উদ্দিন জমির মালিক করুনা কান্ত রায়সহ প্রতিবেশি সুনিল কুমার ও অমূল্য কুমারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, আমি এই উপজেলার মালিক, আমি ইউএনও মনসুর উদ্দিন বলছি, আমি এই উপজেলার মালিক। আমি যে সিদ্ধান্ত দিবো সেটাই সবাইকে মেনে নিতে হবে। এর পরেও যদি এখানে কেউ কথা বলার সাহস দেখায় তাহলে তাদের জমি খাস করে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করে একেবারে ভারতে পাঠিয়ে দিব।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী করুনা কান্ত রায় কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়ে তার এ আচরণে আমরা মর্মাহত। একজন ইউএনও সাধারণ মানুষের সাথে কিভাবে অসৌজন্য মূলক আচরণ করতে পারেন আমার জানা নেই। আমি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় তদন্ত করে সঠিক বিচার করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনকে তার সেল ফোনে বার বার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমন কি তাকে মেসেজ করেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।