রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবদলের হামলায় ইউনিয়ন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী নিহত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন ও চাপের মুখে কমিটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধারের সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুকুল, পলাশ ও আশরাফের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে (২৪) নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এই কাপুরুষোচিত ও রক্তক্ষয়ী হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সালাউদ্দিন মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন।

​শনিবার বিকেল সংঘটিত এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে নোংরা রাজনীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। রবিবার বিকেলে ওই মহলটি প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক পকেট কমিটি গঠনের পাঁয়তারা চালায়। এ খবর পেয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষককে উদ্ধার করতে ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এগিয়ে যান ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​ঠিক তখনই বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির আড়ালে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোকলেছুর রহমান মুকুল, পলাশ ও আশরাফের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ক্যাডার দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও ছুরি নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত ও হিংস্র থাবা চলায়। সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপ ও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন।

​উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন লড়াকু ছাত্রনেতা সাইফুল্লাহ বারী। আহত সালাউদ্দিন বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​এই কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর সাঘাটাজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সচেতন মহল এই ঘটনাকে শিক্ষার পবিত্র অঙ্গনে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের এক জঘন্যতম ও পৈশাচিক বহিঃপ্রকাশ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

​এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন জনতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে খুনি মুকুল, পলাশ ও আশরাফসহ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

error: Content is protected !!

যুবদলের হামলায় ইউনিয়ন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী নিহত

প্রকাশের সময়: ০৭:০৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন ও চাপের মুখে কমিটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধারের সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুকুল, পলাশ ও আশরাফের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে (২৪) নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এই কাপুরুষোচিত ও রক্তক্ষয়ী হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সালাউদ্দিন মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন।

​শনিবার বিকেল সংঘটিত এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে নোংরা রাজনীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। রবিবার বিকেলে ওই মহলটি প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক পকেট কমিটি গঠনের পাঁয়তারা চালায়। এ খবর পেয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষককে উদ্ধার করতে ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এগিয়ে যান ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​ঠিক তখনই বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির আড়ালে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোকলেছুর রহমান মুকুল, পলাশ ও আশরাফের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ক্যাডার দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও ছুরি নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত ও হিংস্র থাবা চলায়। সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপ ও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন।

​উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন লড়াকু ছাত্রনেতা সাইফুল্লাহ বারী। আহত সালাউদ্দিন বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​এই কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর সাঘাটাজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সচেতন মহল এই ঘটনাকে শিক্ষার পবিত্র অঙ্গনে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের এক জঘন্যতম ও পৈশাচিক বহিঃপ্রকাশ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

​এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন জনতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে খুনি মুকুল, পলাশ ও আশরাফসহ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।