শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় অনলাইন জুয়ার ফাঁদে নিঃস্ব শত শত মানুষ: নেপথ্যে মাসুদ রানার চক্র, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অনলাইন ক্যাসিনো ও অবৈধ বেটিং সাইটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজকে সর্বশান্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বোর্ড বাজার ইন্দ্রাপাড় (পুলিশ লাইন সংলগ্ন) এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইউনুস মিয়ার ছেলে  মাসুদ রানা ওরফে রানা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছেন।



বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই চক্রটি তাদের কার্যক্রম চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চক্রটি সাধারণ মানুষকে রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে। Krikya, Crickex, CV666, ML77, CV999, 1xBet সহ অন্তত ৫০টির বেশি জুয়ার বেটিং সাইটে মাস্টার এজেন্ট ও সাধারণ এজেন্ট হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

​বিকাশ, নগদ, রকেট এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, লেনদেনের কাজে চক্রটি০১৮৩৯৩৯৫৫৫৫,০১৭১৪৭৫৭০৭৬,০১৬১২৭৫৭০৭৬, ০১৬১০০২০০৭৮,০১৭৫০৪৯০৬০১ ও ০১৬১৫৪ NDE ৮৬৯ – সহ একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ব্যবহার করে আসছে।

​যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে সহজে আয়ের লোভ দেখিয়ে শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের এই জুয়ার জালে জড়ানো হচ্ছে। প্রথমে ছোট অঙ্কের টাকা জিতিয়ে পরবর্তীতে বড় অঙ্কের বাজি ধরতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে বহু পরিবার তাদের সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং এলাকায় সামাজিক অপরাধ ও পারিবারিক অশান্তি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতারাতি অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক বনে গেছেন মাসুদ রানা।

​প্রশাসনের তৎপরতা ও বিতর্কিত অভিযোগে জানা যায়, প্রায় দুই আড়াই মাস আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সদর থানার একটি দল তাকে আটক করে । তবে রহস্যজনক কারণে কোনো নিয়মিত মামলা বা আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অনৈতিক আর্থিক মাসিক সমঝোতার মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে পুনরায় জুয়ার কারবার চালু করে।

​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট, র‍্যাব, গোয়েন্দা বিভাগ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং অর্থপাচার ও জুয়া আইনে যথাযথ তদন্তপূর্বক এই ক্যাসিনো সম্রাট কে আইনের আওতায় আনার জোড় দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় অনলাইন জুয়ার ফাঁদে নিঃস্ব শত শত মানুষ: নেপথ্যে মাসুদ রানার চক্র, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

error: Content is protected !!

গাইবান্ধায় অনলাইন জুয়ার ফাঁদে নিঃস্ব শত শত মানুষ: নেপথ্যে মাসুদ রানার চক্র, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের সময়: ০৯:৪৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

অনলাইন ক্যাসিনো ও অবৈধ বেটিং সাইটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজকে সর্বশান্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বোর্ড বাজার ইন্দ্রাপাড় (পুলিশ লাইন সংলগ্ন) এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইউনুস মিয়ার ছেলে  মাসুদ রানা ওরফে রানা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছেন।



বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই চক্রটি তাদের কার্যক্রম চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চক্রটি সাধারণ মানুষকে রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে। Krikya, Crickex, CV666, ML77, CV999, 1xBet সহ অন্তত ৫০টির বেশি জুয়ার বেটিং সাইটে মাস্টার এজেন্ট ও সাধারণ এজেন্ট হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

​বিকাশ, নগদ, রকেট এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, লেনদেনের কাজে চক্রটি০১৮৩৯৩৯৫৫৫৫,০১৭১৪৭৫৭০৭৬,০১৬১২৭৫৭০৭৬, ০১৬১০০২০০৭৮,০১৭৫০৪৯০৬০১ ও ০১৬১৫৪ NDE ৮৬৯ – সহ একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ব্যবহার করে আসছে।

​যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে সহজে আয়ের লোভ দেখিয়ে শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের এই জুয়ার জালে জড়ানো হচ্ছে। প্রথমে ছোট অঙ্কের টাকা জিতিয়ে পরবর্তীতে বড় অঙ্কের বাজি ধরতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে বহু পরিবার তাদের সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং এলাকায় সামাজিক অপরাধ ও পারিবারিক অশান্তি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতারাতি অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক বনে গেছেন মাসুদ রানা।

​প্রশাসনের তৎপরতা ও বিতর্কিত অভিযোগে জানা যায়, প্রায় দুই আড়াই মাস আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সদর থানার একটি দল তাকে আটক করে । তবে রহস্যজনক কারণে কোনো নিয়মিত মামলা বা আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অনৈতিক আর্থিক মাসিক সমঝোতার মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে পুনরায় জুয়ার কারবার চালু করে।

​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট, র‍্যাব, গোয়েন্দা বিভাগ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং অর্থপাচার ও জুয়া আইনে যথাযথ তদন্তপূর্বক এই ক্যাসিনো সম্রাট কে আইনের আওতায় আনার জোড় দাবি জানিয়েছেন।