
পানির অপর নাম জীবন’—চিরাচরিত এই প্রবাদটি এখন চরম উপহাসে পরিণত হয়েছে গাইবান্ধা পৌরসভার খানকাশরিফ এলাকার বাসিন্দাদের কাছে। পৌরসভার পানির ট্যাংকির দেয়ালে বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে ‘নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করুন’, অথচ সেই বিল নিয়মিত দিয়েও গত দুই দিন ধরে এক ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার করছে ট্যাংকির আওতাভুক্ত শত শত পরিবার। বারবার অভিযোগ জানিয়েও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত পানির বিল ও পৌরকর পরিশোধ করার পরও তারা প্রতিনিয়ত এমন চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। রান্নাবান্না, খাওয়া ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে তীব্র পানি সংকটে পুরো এলাকার জনজীবন এখন স্থবির।
ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের দাবি, দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা এবং গাফিলতির কারণেই এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তাদের অভিযোগ, পুরোনো ও জোড়াতালি দেওয়া নষ্ট মোটর বারবার মেরামত করে এনে বসানো হয়, যা দুদিন যেতে না যেতেই আবার অকেজো হয়ে পড়ে। নামমাত্র মেরামতের এই ‘তামাশা’ দেখিয়ে বারবার অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে অর্থ পকেটস্থ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা গাইবান্ধা পৌরসভার ইঞ্জিনিয়র আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। গতকাল একটি মোটর বাঁধাই করে এনে লাগানো হয়েছিল, কিন্তু সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। আজ আবার পাঁচজন মিস্ত্রি দিয়ে মেরামতের কাজ করানো হচ্ছে।”
তবে পৌরবাসীর স্পষ্ট দাবি—কথার ফুলঝুরি বা জোড়াতালির সাময়িক সমাধান নয়; দ্রুত নতুন ও টেকসই মোটর স্থাপন করে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিল আদায়ে পৌরসভা যতটা কঠোর, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতেও ততটাই দায়িত্বশীল ভূমিকা দেখতে চায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















