সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ: ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​ভুক্তভোগী শিক্ষিকার দায়ের করা মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছান্দিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শরিফা জিন্নাতের সঙ্গে ১ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম একাধিকবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান।

​পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে চেয়ারম্যান নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং বিয়ের খরচ ও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে উপায় না দেখে ওই শিক্ষিকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রবিউল ইসলামকে তিন লাখ টাকা দেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও বিয়ে নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।

​মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ নেওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন এবং বিয়ে না করতে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। এছাড়া শিক্ষিকার ব্যক্তিগত কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কৌশলে ৩০০ টাকার ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

​পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা গাইবান্ধা আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

জনপ্রিয়

শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ: ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

error: Content is protected !!

শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ: ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

প্রকাশের সময়: ১০:২৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​ভুক্তভোগী শিক্ষিকার দায়ের করা মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছান্দিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শরিফা জিন্নাতের সঙ্গে ১ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম একাধিকবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান।

​পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে চেয়ারম্যান নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং বিয়ের খরচ ও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে উপায় না দেখে ওই শিক্ষিকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রবিউল ইসলামকে তিন লাখ টাকা দেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও বিয়ে নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।

​মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ নেওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন এবং বিয়ে না করতে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। এছাড়া শিক্ষিকার ব্যক্তিগত কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কৌশলে ৩০০ টাকার ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

​পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা গাইবান্ধা আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।