
৮ বছরের এক মাদ্রাসাশিশুর ওপর নির্মম পাশবিকতার ২৪ দিন পেরিয়ে গেলেও অধরা অভিযুক্ত ধর্ষক রাজু মিয়া। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনায় ফুঁসে উঠেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের স্থানীয় জনতা। অবিলম্বে ধর্ষককে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে রাজপথে নেমে আল্টিমেটাম দিয়েছে এলাকাবাসী।
সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের জামালপুর বাজারে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল মানববন্ধন। মিফতাহুল উলুম নূরানী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীর ওপর বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ফেস্টুন-ব্যানার হাতে স্তব্ধ করে দেন রাজপথ।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই প্রতিবাদ সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৪ আগস্ট বিকেলে দেবাত্তর রামনাথপুর গ্রামে রাজু মিয়া ওই শিশুকে কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রতিবেশীরা শিশুটিকে উদ্ধার করলেও কৌশলে পালিয়ে যায় লম্পট রাজু। ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামি এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা আইনের শাসনের চরম অবমাননা।
মেহেদুল ইসলাম মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং আল-আমিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে চোখের জল আটকে বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মধু মিয়া। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সাদেকুল ইসলাম, ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আজাদুল ইসলাম, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল, মিফতাহুল উলুম নূরানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ সাইফুল ইসলাম, সুন্দইল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, জামালপুর হাট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ মন্ডল, হাড়িয়া মন্ডল জামে মসজিদের খতিব মুফতি হাবিবুর রহমান এবং দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লম্পট রাজুকে আইনের আওতায় আনা না হলে গোবিন্দগঞ্জজুড়ে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













