
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পরকীয়া সম্পর্ক আড়াল করতে দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে স্বামী ঘেঙ্গারু শেখকে (২৮) হত্যার অভিযোগে থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে। উপজেলার তরফকামাল গ্রামের মৃত কছিম উদ্দীনের ছেলে কবেজ আলী বাদী হয়ে সম্প্রতি গোবিন্দগঞ্জ থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১৯৮৭ সালের দিকে তাঁর চাচাতো ভাই জরিপপুর গ্রামের মৃত আজিজার শেখের ছেলে মো. ঘেঙ্গারু শেখ একই গ্রামের মৃত ইছাহাক আলী শেখের মেয়ে মোছা. রেশেনা বেগমকে বিয়ে করে সেখানে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী গোয়ালপাড়া গ্রামের মৃত নকিম উদ্দীনের ছেলে মন্ডু মিয়া (৫৮) রেশেনা বেগমের ছোট বোন রাশেদা বেগমকে বিয়ে করেন। শ্যালিকাকে বিয়ের সুবাদে মন্ডু মিয়া নিয়মিত শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং একপর্যায়ে ঘেঙ্গারুর স্ত্রী রেশেনার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
বিষয়টি ঘেঙ্গারু শেখ জানতে পেরে এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এজাহার সূত্রে জানা যায়, অবৈধ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে রেশেনা ও মন্ডু পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১৯৯৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ঘেঙ্গারুকে দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খেতে দেয়। সরল বিশ্বাসে তা পান করার পরই ঘেঙ্গারু তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। এ সময় অভিযুক্তরা ঘরের দরজায় শিকল তুলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করলেও পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘেঙ্গারু মারা যান।
বাদী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পরপরই মামলা করতে গেলে তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেননি। দীর্ঘ সময় পর ন্যায়বিচারের আশায় এজাহার দাখিল করে বাদী দাবি করেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















