বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় সড়ক সংস্কারে পুকুরচুরি: রাবিশ দিয়ে কাজ, অনিয়ম ঢাকতে সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধের চেষ্টা ঠিকাদার শেলীর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ১০:১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

কাগজে-কলমে টেকসই সড়ক নির্মাণের বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে চলছে হরিলুট আর চরম অনিয়ম। গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু অনিয়মেই ক্ষান্ত হননি ঠিকাদার, গণমাধ্যমে সেই জালিয়াতির চিত্র ধামাচাপা দিতে সংবাদকর্মীদের প্রকাশ্যে টাকা গুঁজে দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন তিনি।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসেম বাজার পূর্বপাড়া থেকে নামাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির সংস্কার কাজ চলছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি অর্থ গিলে খেতে সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে চরম নিম্নমানের সামগ্রী। সড়কে যে খোয়া ফেলা হচ্ছে, তার বড় অংশই বালুমিশ্রিত এবং খোয়াগুলোর আকার অস্বাভাবিক রকমের বড়। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের প্রাক্কলন বা সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত মানের খোয়া ও ইটের বদলে সরাসরি ভাটার পরিত্যক্ত রাবিশ ও ৩ নম্বর ঝামা ইট গুঁড়ো করে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

​নামাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই পথটি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেভাবে নয়ছয় করে দায়সারা কাজ এগোচ্ছে, তাতে বর্ষা কিংবা ভারী যান চলাচলের অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি আগের চেয়েও বেহাল দশায় রূপ নেবে। ঠিকাদারের এমন প্রকাশ্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সদর উপজেলার থানাপাড়ার বাসিন্দা অভিযুক্ত ঠিকাদার শেলি অনিয়মের জবাব না দিয়ে উল্টো উপস্থিত সংবাদকর্মীদের হাতে টাকা গুঁজে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালান। ঠিকাদারের এমন নির্লজ্জ আচরণেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে কাজের ভয়াবহ অনিয়ম ও চরম দুর্নীতির চিত্র।

​এদিকে কাজের এমন বেহাল দশা নিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়সারা বক্তব্য দেন। তিনি জানান, “সাইটে যে কার্যসহকারী উপস্থিত আছেন তিনি যথেষ্ট দায়িত্ববান একজন মানুষ। তার উপস্থিতিতে এমন অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখব।” তদারকি কর্মকর্তার এমন নির্বিকার ভূমিকা স্থানীয়দের ক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে।

​জনস্বার্থের এই সড়ক সংস্কারে হরিলুট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ এবং সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কাজ বন্ধ করে দিয়ে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।

জনপ্রিয়

গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি আটক, পলাতক ১

error: Content is protected !!

গাইবান্ধায় সড়ক সংস্কারে পুকুরচুরি: রাবিশ দিয়ে কাজ, অনিয়ম ঢাকতে সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধের চেষ্টা ঠিকাদার শেলীর

প্রকাশের সময়: ১০:১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাগজে-কলমে টেকসই সড়ক নির্মাণের বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে চলছে হরিলুট আর চরম অনিয়ম। গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু অনিয়মেই ক্ষান্ত হননি ঠিকাদার, গণমাধ্যমে সেই জালিয়াতির চিত্র ধামাচাপা দিতে সংবাদকর্মীদের প্রকাশ্যে টাকা গুঁজে দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন তিনি।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসেম বাজার পূর্বপাড়া থেকে নামাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির সংস্কার কাজ চলছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি অর্থ গিলে খেতে সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে চরম নিম্নমানের সামগ্রী। সড়কে যে খোয়া ফেলা হচ্ছে, তার বড় অংশই বালুমিশ্রিত এবং খোয়াগুলোর আকার অস্বাভাবিক রকমের বড়। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের প্রাক্কলন বা সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত মানের খোয়া ও ইটের বদলে সরাসরি ভাটার পরিত্যক্ত রাবিশ ও ৩ নম্বর ঝামা ইট গুঁড়ো করে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

​নামাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই পথটি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেভাবে নয়ছয় করে দায়সারা কাজ এগোচ্ছে, তাতে বর্ষা কিংবা ভারী যান চলাচলের অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি আগের চেয়েও বেহাল দশায় রূপ নেবে। ঠিকাদারের এমন প্রকাশ্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সদর উপজেলার থানাপাড়ার বাসিন্দা অভিযুক্ত ঠিকাদার শেলি অনিয়মের জবাব না দিয়ে উল্টো উপস্থিত সংবাদকর্মীদের হাতে টাকা গুঁজে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালান। ঠিকাদারের এমন নির্লজ্জ আচরণেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে কাজের ভয়াবহ অনিয়ম ও চরম দুর্নীতির চিত্র।

​এদিকে কাজের এমন বেহাল দশা নিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়সারা বক্তব্য দেন। তিনি জানান, “সাইটে যে কার্যসহকারী উপস্থিত আছেন তিনি যথেষ্ট দায়িত্ববান একজন মানুষ। তার উপস্থিতিতে এমন অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখব।” তদারকি কর্মকর্তার এমন নির্বিকার ভূমিকা স্থানীয়দের ক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে।

​জনস্বার্থের এই সড়ক সংস্কারে হরিলুট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ এবং সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কাজ বন্ধ করে দিয়ে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।